৩০০০ বছর অক্ষত মমির মাথার চুল!

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ০৫:১৮

মৃতদেহকে সংরক্ষণ করতে প্রাচীন মিশরীয়রা কয়েক হাজার বছর আগেই বিশেষ কৌশল রপ্ত করেন। মাথার মগজ, পেটের নাড়িভুঁড়ি, পচনশীল অঙ্গ ফুসফুস, বৃক্ক, পাকস্থলী বের করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পেট সেলাই করে লিনেনের কাপড় দিয়ে পুরো শরীর পেঁচিয়ে মমিগুলোকে সংরক্ষণ করতেন। সংরক্ষণ করা মমিতে সাধারণত অক্ষত চুল পাওয়া যায় না।

 

কিন্তু এবার এমন কিছু মমি পাওয়া গেছে যেগুলোতে ৩ হাজার বছর পরও নকশা করা চুলের ঝুঁটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এমনই তিনটি মিশরীয় মমি নিয়ে গবেষণা করে রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মমির চুলে বিশেষ এক ধরনের জেল ব্যবহার করার কারণেই এখনো অক্ষত সেই নকশা করা চুলের ঝুঁটি। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ঐ জেল তৈরিতে ব্যবহূত হয়েছে গরুর চর্বি, ক্যাস্টর অয়েল, মোম এবং পাইন গাছের আঠা।

রাশিয়ার কুরচাতভ ইনস্টিটিউট অব মস্কোর ঐ গবেষণাগারে পরীক্ষা করে গবেষকরা চুলের ঝুঁটি অক্ষত থাকার রহস্য উন্মোচন করেছেন। মমি তিনটির বয়স ৩ হাজার বছর বলেও জানিয়েছেন তারা। বাঁকানো নকশা করা এ চুলে গরুর চর্বি, ক্যাস্টর অয়েল, মোম এবং পাইন গাছের আঠার সঙ্গে এক ধরনের সুগন্ধিও ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত চুলকে সুগন্ধ রাখতেই এ উপাদানটি ব্যবহার করা হয়েছে। চুলের ঝুঁটিকে বাঁকিয়ে রাখতে এ সুগন্ধির কোনো ভূমিকা ছিল না।

আরও পড়ুন: ২০ মণ ওজনের গরু ‘পালসার বাবু’

ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ভিক্টর পোজিদেয়েভ বলেন, বাঁকানো নকশার চুলের ঝুঁটিটি এতোদিন ধরে অটুট থাকায় আমরা খুবই বিস্মিত হই। এতো দীর্ঘ সময়েও চুলের মধ্যে জট তৈরি না হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে জানতে পারি, সেখানে বিশেষ ঐ জেল ব্যবহারের কথা। তিনটি মমির মধ্যে দুটি নারীর মমি এবং একটি পুরুষের। —ডেইলি মেইল

ইত্তেফাক/অনি