বিনা মূল্যের পাঠ্য বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য প্রতি বছর ‘ইন্সপেকশন এজেন্ট’ নিয়োগ দেওয়া হয়। টানা গত ১২ বছর ধরে এই কাজ পেয়ে আসছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি ও শেখ ট্রেডিং। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেল্লাহ হোসেন ও শেখ বিপ্লব। তারা আপন দুই ভাই। ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন হিসেবে তারা কাজ করে আসছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে নিম্নমানের পাঠ্যবইকে ভালো মান সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ। এ কারণে এবার তাদের দিয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
জানা গেছে, এবার মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্য বইয়ের মান সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করাতে চায় এনসিটিবি। এক্ষেত্রে বুয়েট কিংবা বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মান যাচাইয়ের চিন্তা-ভাবনা করছে সংস্থাটি।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে পাঠ্যবই মুদ্রণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তদারকির কাজ করানো হচ্ছে। মাধ্যমিকের ২৮ কোটি বই ছাপানোর জন্য কমপক্ষে ১ লাখ টন কাগজ, কালি, আর্ট পেপার তদারকি করতে হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৫০টির বেশি প্রেসে ২৪ ঘণ্টা একজন করে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার মতো জনবল, মেশিনারিজ, ল্যাবসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবারও ৩০-৪০ শতাংশ কমে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই তদারকির কাজটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো যায় কি না, তা বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ও অভিজ্ঞতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি মিললেই কাজ দেওয়া হবে অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বই ছাপার সঙ্গে জড়িতরা জানান, বিনা মূল্যে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর অবস্থানে এনসিটিবি। ছাপার আগে ও পরে তদারকির জন্য দুটি ভাগে পিডিআই ও পিএলআই এজেন্ট ইন্সপেকশন নিয়োগ দিতে হয়।
গত সপ্তাহে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্রের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি। নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। ফলে সব কাজ শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে। কিন্তু বই ছাপানোর আগে ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দিতে হয়। বই মুদ্রণের জন্য প্রেসের মালিকদের সঙ্গে চুক্তিপত্র করার সময় ইন্সপেকশন কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। এটি না থাকায় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারছে না এনসিটিবি। সংশ্লিষ্টরা বলেন, বই ছাপার আগে তিন স্তর এবং পরে এক স্তর; মোট চার স্তরে তদারকি করে পরিদর্শন এজেন্সি। শুধু তা-ই নয়, গভীর রাতে নিম্নমানের বই ছাপানো ঠেকাতে প্রত্যেকটি ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টার জন্য তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়। তারা প্রথমে প্রেসে কাগজের মান (স্থায়িত্ব ও জিএসএম) ঠিক আছে কি না, তা দেখে ছাড়পত্র দিলেই বই ছাপা হয়। ছাপা হওয়া পর মান যাচাই করে ফের ডেলিভারি জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই স্তরকে (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) পিডিআই বলে। বই পৌঁছার পর প্রত্যেক উপজেলা থেকে বই সংগ্রহ করে সেগুলোর মান যাচাই করতে (পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন) পিএলআই এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়।
