পুরো শরীরজুড়ে সাদা রং, সঙ্গে হালকা সোনালি আভা। মায়াবী চোখজোড়ায় আছে রাজকীয় চাহনি। শোয়াবসা থেকে শুরু করে খাবার দাবার সবই রাজকীয়। যখন দাঁড়িয়ে থাকে তখন হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের ৩৮ মণ ওজনের ষাঁড়টি দেখতে পাহাড়ের মতোই। তাই প্রায় ৩ বছরের ব্যবধানে ‘প্রিন্স’ থেকে নাম পরিবর্তন করে ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘সাদা পাহাড়’। আসন্ন কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা সুঠামদেহী এ গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের রামকোল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার দাসের খামারে লালন-পালন করা হয় সাদা পাহাড়কে। বিশাল গরুটি দেখতে প্রতিদিন খামারে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। অনেকেই তুলছে সেলফি।
প্রশান্ত কুমার দাসের খামারের কাজ করা রাখাল কালাম প্রামানিক বলেন, ‘অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সাদা পাহাড়কে নিজেদের জমিতে লাগানো নেপিয়ার ঘাস খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করাতে হয়। সকাল আটটা, বেলা দুইটা থেকে আড়াইটা এবং সন্ধ্যায় খাবার দিই। খাবারে গমের ছাল, চালের গুঁড়া, খড়, খৈল, খেসারি, ছোলা ও কাঁচা ঘাস দিই। গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকার খাবার লাগে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে কুষ্টিয়ার বালিয়াপাড়া হাটে বিক্রি করতে আসা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ষাঁড়টি কেনেন তিনি। সঙ্গে আরও চারটি বাছুর কেনেন। অল্প দিন বাদেই বাড়ির সবাই ষাঁড়টির মায়ায় পড়ে যান। তিন বছরে বিশাল দেহের অধিকারী হয়েছে ষাঁড়টি। ছোট ধবধবে সাদা ষাঁড়টিকে শুরুর দিকে প্রিন্স নামে ডাকতো সবাই। কিন্তু বাড়তে বাড়তে সাদা রংয়ের ষাঁড়টি বিশালাকার হয়ে ওঠে। দাঁড়ানো অবস্থায় পাহাড়ের মতো মনে হওয়ায় তাকে সবাই এখন ‘সাদা পাহাড়’ নামে ডাকে। লম্বায় ৮ ফুট ও প্রায় সাড়ে ৮ ফুট চওড়া সাদা পাহাড়ের ওজন প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কেজি বা ৩৮ মণের বেশি।
প্রশান্ত কুমার দাসের স্ত্রী ভারতী দাস বলেন, ষাঁড়টি যখন ছোট ছিল, তখন “প্রিন্স” নামে ডাকতাম। বড় হওয়ার পর থেকে তাকে সাদা পাহাড় নামেই ডাকি। আমাদের সাদা পাহাড় একেবারেই শান্ত। কিন্তু খামারে ঢুকে যদি তাকে হাত বুলিয়ে না দিই তাহলে গর্জন করতে থাকে। একটু আদর করে দিলে শান্ত হয়ে যায়।
প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কেজি বা প্রায় ৩৮ মণ ওজন। গোসল করার প্রয়োজন হলে, ক্ষুধা লাগলে, কখনও আকাশে মেঘ জমলে ডাকাডাকি করতে থাকে। ওর ডাকাডাকিতে আমরা অনেক কিছুই বুঝতে পারি। পরিস্থিতি দেখে বুঝে নিই, আমাদের প্রিন্স বা সাদা পাহাড়ের কোনো সমস্যা হয়েছে কি না বা কী বোঝাতে চাইছে। এত বড় গরু হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা সম্ভব না। ভালো দাম পেলে বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি করে দেব। আর না পেলে ঢাকা-চট্টগ্রামের হাটে সাদা পাহাড়কে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রায় ৩৮ মণ ওজনের এত বড় ষাঁড় রাজবাড়ী জেলায় নেই। এত বড় গরু লালন পালন করা খুবই কষ্টের কাজ। পাংশার একজন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

বিশালাকার কালা মানিক ও রাজা বাবুকে দেখতে মানুষের ভিড়