বৃষ্টি হলে টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে, ছাতা মাথায় ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ২০:১১

খদ্দ গজাইল দাখিল মাদ্রাসাটি অবকাঠামোগত সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উর্ধানিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিল অঞ্চলের এই মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষগুলোর দরজা-জানালা ভাঙা, চালের টিনে বড় বড় ফুটো সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিবেশে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। 

বৃষ্টি হলেই চরম বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকে মাথার ওপর ছাতা ধরে ক্লাস করতে বাধ্য হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার মান। এছাড়া গরমের সময় ছোট ছোট কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপে প্রচণ্ড গরমের সৃষ্টি হয় ফলে মাঝে মধ্যে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েও পড়ে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ২৭০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু এতগুলো শিক্ষার্থীর জন্য নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি বহুতল ভবন বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। নির্মাণের আগ মুহূর্তে কিছু জটিলতার কারণে সেখানে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে মাদ্রাসাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।   

এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশলী রুহুল আমিন মাদ্রাসাটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এখানে ঐ সময় ভবনটি নির্মিত হলে এই অবস্থা হতো না। মাটি ও অন্যান্য কিছু জটিলতার কারণে এখানে ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তী ধাপে এই মাদ্রাসায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, ‘মাদ্রাসার জন্য একটি বহুতল ভবন খুবই জরুরী। অন্যান্য মাদ্রাসার তুলনায় এখানে শিক্ষার্থী ও পাশের হার বেশী হলেও একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। আমরা কতটা দুরবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি তা কেউ না দেখলে বুঝতে পারবে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, 'এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপাতত কিছু বরাদ্দ দিয়ে পাঠদানের উপযোগী করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

ইত্তেফাক/এএম