অনুমতি ছাড়াই বড়াল নদীতে ড্রেজিং, ১.৭৯ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ২১:২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার বড়াল নদীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে অনুমতি ছাড়া ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভা। নদী কমিশন বা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে এই কার্যক্রম। স্থানীয়রা বলছেন, ড্রেজিং নামে প্রকল্পে চলছে অনিয়ম এবং নদী শাসনের অপচেষ্টা।

প্রায় ৫০০ ফুট প্রস্থের বড়াল নদী দখল ও দূষণে এখন অনেকাংশেই সরু খালে পরিণত হয়েছে। একসময় এই নদী দিয়েই পদ্মা ও যমুনার পানি গড়িয়ে পড়তো দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলন বিলে। অথচ বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের অজুহাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ‘বিএমডব্লিউএসএসপি’ প্রকল্পের আওতায় বনপাড়ার হাওড়া মিঠুর বাড়ি থেকে নটাবাড়িয়া বকুলতলা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বড়াল নদী ও হাওড়া থেকে বিলচিনিডাঙ্গা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার জিয়া খাল সংস্কার করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল, যার বরাদ্দ ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ঠিকাদারি কাজটি পেয়েছে নাটোরের মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং।

বনপাড়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন কুমার শিল স্বীকার করেছেন, প্রকল্পে বড়াল নদী ড্রেজিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও পৌর শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনে তারা নদীর পাঁচ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং করছেন। এ বিষয়ে নদী কমিশন বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষ বড়ালের পাঁচ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং করছে। তবে তারা আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। ইতোমধ্যে আমরা ৫২৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যাতে বড়াল ও নারদ নদী দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হবে। পৌরসভার এই কাজ আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং-এর পক্ষে মো. আসিফ নামের এক ব্যক্তি জানান, প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

এদিকে বনপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এমনকি প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতেও অসহযোগিতা করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবিক অর্থে নদী পুনরুদ্ধারের চেয়ে বরং দখল ও পরিবর্তনের ছলচাতুরিতে পরিণত হয়েছে। তারা প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন।

ইত্তেফাক/আইএ/এনজি