তীব্র তুষারপাত এবং হাড়কাঁপানো শীতল আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র ইউরোপ। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মহাদেশটির বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ও গাছ উপড়ে পড়ার মতো ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে কয়েক শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী প্যারিস ও আমস্টারডামের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি না হওয়ায় এই চরম ভোগান্তি বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সে তুষারঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ল্যান্ডেস এলাকায় পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে পৃথক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্যারিস অঞ্চলে আরও ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, যার মধ্যে একটি ট্যাক্সি তুষারের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মার্ন নদীতে পড়ে গেলে চালকের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বলকান অঞ্চলেও ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে প্রায় ১৬ ইঞ্চি তুষারপাতের ফলে একটি গাছ উপড়ে এক নারীর ওপর পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়। ফ্রান্সের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জনগণকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার এবং ঘরে বসে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিবহন ব্যবস্থায় নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সেও। আমস্টারডামের শিফোল বিমানবন্দরে বুধবারই ৪ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও ৬০০ ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে। ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজ তুষারমুক্ত করার রাসায়নিক বা ডি-আইসিং ফ্লুইড ফুরিয়ে আসায় তারা বাধ্য হয়ে ফ্লাইট বাতিল করছে।
এদিকে প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দরে বুধবার সকালের ৪০ শতাংশ এবং অরলি বিমানবন্দরে ২৫ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথের পাশাপাশি ট্রেন যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে; নেদারল্যান্ডসে আইটি ত্রুটির কারণে সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল এবং আমস্টারডাম থেকে প্যারিসগামী ইউরোস্টার সার্ভিসগুলো হয় বাতিল না হয় বিলম্বিত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

