‘তোমরা কি আমায় মিস করো?’

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০

ফুটবল দুনিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকরা খুব অস্বস্তিতে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা যেখানে ফুরফুরে সেখানে ব্রাজিলিয়ান শিবির স্বস্তিতে নেই। থাকারও কথা না। বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই নেইমার খেলতে পারেননি, ইনজুরির কারণে। সেই ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে অশান্তির মধ্যে রয়েছে।

আগামীকাল সকাল ৭টায় ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচ, হাইতির বিপক্ষে। এই ম্যাচে নেইমার নামবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়। কারণ আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না নেইমার। এই ঘোষণার পরই নেইমার নিজে নিজে অনুশীলন শুরু করেছেন। একা অনুশীলন করেছেন। তাহলে কি নেইমার হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামবেন। এখনো নিশ্চিত না।

ব্রাজিল ড্র করায় হতাশ হয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা। কিন্তু ৬৭ বছর বয়সি ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করেছেন তারা মেধা দিয়ে। সব হিসেবেই ছিল নেইমারকে নিয়ে। হিসাব করে দেখেছেন প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিপক্ষে যদি জিতে যান তাহলে একরকম প্ল্যান। আর যদি খারাপ কিছু হয় তাহলে সেটি কাটিয়ে উঠতে প্ল্যান বি প্রয়োগ করবেন। সেটাই করছেন কোচ। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল, হাইতি, স্কটল্যান্ড এবং মরক্কো খেলছে। গ্রুপে একমাত্র জয়টি স্কটল্যান্ডের হাইতিকে হারিয়ে। ব্রাজিলের সামনে হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। দুই ম্যাচ ঘিরে কোচ আনচেলত্তি নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। আর নেইমারকে নিয়ে তার বিশেষ প্ল্যান তো সবারই জানা। দরকার হয় নকআউটে বিশ্বকাপের জার্সি গায়ে জড়াবেন।

May be an image of soccer, football, cleats and text that says 'itaũitau itaű itaũ 人 g Guarana juaraná ANTARLTIC GRASTL'

নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে গিয়েছিলেন নেইমার। সেখানে দলের সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্রাজিলের ফুটবলাররা মরক্কোর ম্যাচ পেছনে ফেলে সামনের দিকে তাকাচ্ছেন। হতাশা ভুলে ফুরফুরে মেজাজে থাকতে চাইছেন। নেইমার অনুশীলন মাঠে গেলে দুই পাশে রাফিনা, ব্রুনো, গ্যাব্রিয়েল, ফাবিনহোরা দাঁড়ান, মাঝখান দিয়ে নেইমার গেছেন। এ যেন গার্ড অব অনার। দেখতে এমন মনে হলেও সবাই মিলে মন ভালো রাখার খুনসুটি করেছেন। ৩৪ বছর বয়সি নেইমার মাঠে সব সময় দুষ্টামি করেন। বের হওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করেছিলেন তোমরা কি আমাকে মিস করো? প্রশ্নটা সংবাদ মাধ্যমকে বলা হলেও আদতে এটি নেইমার ভক্তদের জন্যই করা হয়তো। নেইমার বিশ্বকাপে নেই। পাঁচ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে যেন অসহায় লাগছে। নেইমার থাকলে একটা বাড়তি উত্সাহ থাকে। আশা-ভরসার জায়গা নেইমার। নেইমার ব্রাজিলের প্রাণভোমরা।  ম্যাচ খেলার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবুও নেইমার তার দলের শক্তির প্রেরণা। অন্যদেরকে তাতিয়ে রাখার মহা ওষুধ। নেইমার অনুশীলনে এসেছেন তাতেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। আশার আলো জ্বলেছে। এখন সুস্থ হওয়ার পথে নেইমার। তার ডান পায়ের কাপ মাসলে চোট ছিল। স্টেজ টু। আগে যেটি ছিল স্টেজ ফোর। এখন সেটা উন্নতির দিকে।

নেইমার অনুশীলন করলেও বল পায়ে নেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তির কোচিং স্টাফ তাকে একা একা অনুশীলন করিয়েছেন। আর তাতে আনচেলত্তিরও যেন সাহস পাচ্ছেন।

আনচেলত্তি অবশ্য জানিয়েছেন নেইমার সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন, দ্রুতই ফিরবেন মাঠে। কাপ মাসলের চোট নিয়ে ব্রাজিল দলের ডাক্তাররা খুব বেশি তাড়াহুড়া করতে চাইছেন না। হাইতি কিংবা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললেও আপত্তি নেই আনচেলত্তির। কারণ কোচ মনে করছেন চোটের ওপর কারো হাত নেই। জোর করেও চোট সারিয়ে তোলা যায় না। নেইমারকে ছাড়াই যদি গ্রুপ পর্ব কোনো রকমে পার পাওয়া যায় তাহলে নকআউটে পুর্ণ শক্তির নেইমারকে পাওয়া যাবে। কারণ নেইমার মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষ এলোমেলো হয়ে যাবে—সেই বিশ্বাস দলের মধ্যে। নেইমার সুস্থ হওয়ার পথে। চোটের জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ পার হয়েছেন। তার তাতেই আশার আলো দেখছেন কোচ। হাইতির ম্যাচের পরেই নেইমার দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে নামতে পারেন। নেইমার হচ্ছে কোচ আনচেলত্তির সবচেয়ে ভরসার জায়গা। ইনজুরি জেনেও কোচ তাকে দলে নিয়েছেন। আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন নেইমার দলের ফেরার জন্য মুখিয়ে রয়েছে, আমাদের প্রত্যাশা আগামী সপ্তাহেই দলের ফিরবেন।  ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বাছাই ম্যাচে বাঁ পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল, মিনিসকাস ছিঁড়ে গিয়েছিল। ইনজুরি, রিকভারি, বিশ্রাম—সব মিলিয়ে নেইমার ব্রাজিলিয়ান জার্সি গায়ে জাড়াননি ৭০০ দিন কেটে গেছে। এবার তার মাঠে নামার পালা।

ইত্তেফাক/এএম