বিশ্বকাপে রূপকথার যাত্রা, ২৫৯ কোটি টাকা পুরস্কার পাচ্ছে কেপ ভার্দে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১:০১

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি বিদায়ের পরও বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি ঘরে তুলতে যাচ্ছে।

প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি গ্রুপ পর্বে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতিহাস গড়ে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় তারা। এরপর শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ২-২ সমতা আনে। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে।

শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারলেও লড়াকু পারফরম্যান্সে সবার প্রশংসা কুড়ায় দলটি।

মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও বড় পুরস্কার পাচ্ছে কেপ ভার্দে। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি বরাদ্দ করেছে ফিফা, যা আগের আসরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রস্তুতি, ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য দেওয়া হবে আরও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া কেপ ভার্দের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাতায়াত, টিকিট ও সাংগঠনিক ব্যয় মেটাতে তারা ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পাবে।

নকআউট পর্বে ওঠার পুরস্কার হিসেবে শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। সব মিলিয়ে কেপ ভার্দের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে অন্তত ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫৯ কোটির টাকারও বেশি।

এই অর্থ কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে জমা হবে। ভবিষ্যতে ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, কোচিং কার্যক্রম এবং দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসজেএস