দোয়া মাহফিলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে তেড়ে গেলেন বিএনপি নেতারা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০১

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক জুলাই যোদ্ধার দিকে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মারতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু তালেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য রাখার সময় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালচনা করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন সাংবিধানিক অজুহাত দেখাচ্ছে এবং গণভোটকে অবৈধ বলছে; গণভোট অবৈধ হলে এই সরকারও অবৈধ। 

হুসাইন আহমেদের এমন বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ ওঠে, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হুসাইন আহমেদের দিকে মারতে তেড়ে যান।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত এমপি আবু তালেব, ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ ও থানার ওসি জেল্লাল হোসেন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হট্টগোলের কারণে বক্তব্য থামিয়ে দিতে বাধ্য হন হুসাইন আহমেদ। পরে দ্রুত মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

ভুক্তভোগী হুসাইন আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘বক্তব্য চলাকালে বিএনপির কিছু লোক এবং বিগত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি আমার ওপর চড়াও হন। তারা বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।’

তবে মারতে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘তেমন বড় কিছু ঘটেনি। সরকারবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা শুধু এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মারতে তেড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার নিবন্ধিত জুলাই যোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। এসময় বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে আমাদের সবার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ইত্তেফাক/এমএসআর