জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের দিকে অগ্রসর টাইফুন ডলফিন, ফ্লাইট ও বন্দর বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৮

জাপানে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ওকিনাওয়ায় ছয়জন আহত হয়েছেন, আর দেশজুড়ে পঞ্চাশ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের পূর্ব উপকূলে বন্দর বন্ধ, ফেরি স্থগিতসহ নানা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাপানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওকিনাওয়ায় পাঁচজন বয়স্ক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন তীব্র বাতাসে পড়ে গিয়ে আহত হন। তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। কাগোশিমায়ও একজন আহত হয়েছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কাগোশিমায় প্রায় ৩৯ হাজার এবং ওকিনাওয়ায় ১২ হাজারের বেশি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো আর জাপান এয়ারলাইনস ওকিনাওয়াগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

টাইফুনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ওকিনাওয়া আর কাগোশিমার আমামি দ্বীপপুঞ্জে। কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ায় তা আরও বেড়ে ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

স্থানীয় সময় রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চীন একে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার ‘অরেঞ্জ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি তৎপরতার মাত্রা বাড়িয়ে লেভেল ৩ করা হয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের ঝোউশান আর ফুজিয়ানের ফুডিংয়ের মাঝামাঝি কোনো এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি। কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৩৮ থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি আর প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকবে। সাংহাইসহ আশপাশের প্রদেশগুলোও এর আওতায়। ঝেজিয়াংয়ের কিছু জায়গায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঝেজিয়াং উপকূলে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ, ফেরি চলাচল স্থগিত, নির্মাণকাজ থামানো আর মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ এলাকায় রোববার থেকে কিছু রেলসেবাও স্থগিত রাখার ঘোষণা এসেছে।

বেইজিং কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা টাইফুনের গতিপথ খুব কাছ থেকে নজর রাখছে। রাজধানীর জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ আর লোকজন সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত আছে।

তাইওয়ানেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৭৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক। দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে এই সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও শনিবার পর্যন্ত কাউকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

টাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। তাইপে একে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের কোনো অধিকার চীনের নেই।

ইত্তেফাক/এবিএস