এক জোড়া বুট ও এক আমগাছ: হান্নানের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৯

ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল এক জোড়া বুট। পাশেই দাঁড়িয়ে একটি আমগাছ। সেই গাছের ডালে ঝুলছিল এপেক্স ফ্যাক্টরীর নিরাপত্তাকর্মী মো. আব্দুল হান্নানের (৫৫) মরদেহ। ভোরের এই দৃশ্যই এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা বড়ইতলা এলাকার নির্মাণাধীন এপেক্স ফ্যাক্টরীর চৌহদ্দিতে হান্নানের মরদেহ পাওয়া যায়।

এর আগে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে দায়িত্বস্থলে দেখেছিলেন ফ্যাক্টরীর ইনচার্জ। অর্থাৎ, তাকে শেষবার স্বাভাবিক অবস্থায় দেখার পর খুব বেশি সময় পেরোয়নি। এর মধ্যেই কী ঘটেছিল, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিহতের ভাতিজা আব্দুল আজিজ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার ছোট কাকাকে আমগাছের ডালে বুটের লেস দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। গাছটি থেকে আনুমানিক ১০ হাত দূরে পড়ে ছিল হান্নানের পরিহিত বুটজোড়া।

হান্নানের এমন মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে বেশ কিছু প্রশ্ন-দায়িত্বস্থল থেকে তিনি কখন গাছটির কাছে গেলেন, কী ঘটেছিল সেই সময়টুকুতে, আর কেনই বা এমন পরিণতি হলো?

নিহত মো. আব্দুল হান্নান কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থানার বালিয়ামারি মন্ডল এলাকার মৃত সলিমুদ্দিন আকন্দের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জের উলুখোলা বড়ইতলা এলাকায় নির্মাণাধীন এপেক্স ফ্যাক্টরীতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে কালীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর সংবাদ দেন তার ভাতিজা আব্দুল আজিজ।

কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

এক জোড়া বুট, একটি আমগাছ আর মাত্র এক ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান-আব্দুল হান্নানের মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা অজানা অধ্যায় এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

ইত্তেফাক/এনএ