জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তারা। তবে আন্দোলনের মুখে কোন ভাবেই পদ ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন উপাচার্য।
গতকাল দুপুরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষদ ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় সকল ভবনে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেন তারা।
শিক্ষক শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়েছি। কারণ উপাচার্য উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবসাক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার বিচার রাষ্ট্রীয় আইনে হতে হবে। আমরা আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার সময় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। কারণ এই অভিযোগ ওঠার পরে আমাদের কর্মস্থলে আর উপাচার্যকে দেখতে চাই না। উপাচার্যকে ১ অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে বাধ্য হবো।’
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, 'উপাচার্য একবার বলছেন ছাত্রলীগ তার কাছে চাঁদাবাজি করেছে। আরেকবার বলছেন চাঁদা দাবি করে নাই। একজন উপাচার্য কোনভাবেই এভাবে দ্বিমুখী বক্তব্য দিতে পারেন না। আমরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলেছি। কখনো বলিনি আপনি দুর্নীতিবাজ। তবে আপনার কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনি নিজেকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্যের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র অন্যতম মুখপাত্র আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলেছি ছাত্রলীগকে প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। তারা মানলেন না। ছাত্রলীগ যখন টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলো সেটাও মানলেন না উপাচার্য। একজন শ্রমিকের ট্যাক্সের টাকা ছাত্র নেতাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই মেনে নিবে না। আমরা উপাচার্যকে জানাতে চাই সসম্মানে পদ ছেয়ে দেন। না হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা আপনার পদ ছাড়তে বাধ্য করবে।’
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় শ্বাসরোধে শিশু হত্যা
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আন্দোলন কিংবা আল্টিমেটামে পদত্যাগ করবেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোন আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করবো না। আমাকে যারা এই পদে বসিয়েছেন তারা চাইলে পদ ছেড়ে দিবো। মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি নির্দেশ দেন তবে পদ থেকে সরে যাবো। যদি আমাকে নির্দেশ না দেন তবে আন্দোলনকারীদের গালমন্দ খেয়েও থেকে যাবো। হয়তো তাদের আন্দোলন আরো দীর্ঘায়িত হবে কিন্তু নির্দেশ আসা না পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো।’
ইত্তেফাক/নূহু
