বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭
৩৫ °সে

আশ্রয় কেন্দ্রে ভিড়ছে মানুষ, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

আশ্রয় কেন্দ্রে ভিড়ছে মানুষ, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ
কয়রা উপজেলার সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া মানুষ। ছবি: ইত্তেফাক

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর পর খুলনার উপকূলীয় চার উপজেলা দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটার শত শত মানুষ আতঙ্কে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাওয়া শুরু করে।

জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রিত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, পানি ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নগর ভবনের দ্বিতীয় তলায় কন্ট্রোল রুম খোলাসহ নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ৩ জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দুপুর ৩টায় ২৫ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে বর্তমানে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অবস্থান করছিল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বুলবুল’ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে কোস্টগার্ড সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে সকল ট্যুরিস্টকে ফেরত এবং স্থানীয় জেলেদের কোস্টগার্ড এরসিসিএমসি আশ্রয় দিয়েছে। সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার গোলাখালীগ্রাম থেকে ৬৫০ জন নারী-পুরুষকে নিরাপদে আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া মোংলা চ্যানেলে অবস্থানকারী সকল কোস্টার এবং লাইটারকে নিরাপদে আশ্রয়স্থলে পাঠানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের ১০টি অপারেশনাল জাহাজ সাইক্লোন পরবর্তী উদ্ধার কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন বলেন, বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি ১৩টি জাহাজের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ জারি থাকবে। বন্দরের পক্ষ থেকে তিনটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত