ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৬ °সে

ইসলামপুরে বন্দুকযুদ্ধে 'ডাকাত সর্দার' নিহত

ইসলামপুরে বন্দুকযুদ্ধে 'ডাকাত সর্দার' নিহত
ইসলামপুরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত 'ডাকাত সর্দার'। ছবি: ইত্তেফাক

জামালপুরের ইসলামপুর যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১২মামলার আসামি, ডাকাত দলের সর্দার, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী (৪৫) ওরফে আলী ডাকাত নিহত হয়েছেন।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাছির উদ্দিন, সদর সার্কেল এসপি মো. শিবলী সাদিক, ইসলামপুর সার্কেল এএসপি সুমন মিয়া সাংবাদিকদের জানায়, গত ২ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যা রাতে একদল ডাকাত, ডাকাতি প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এ সময় গোপন সংবাদ পেয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনের (বিপিএম পিপিএম বার) নির্দেশে ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া, ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পরিদর্শক (তদন্ত) আনছার আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালায়।

ওই অভিযানে প্রজাপ্রতির চর এলাকা থেকে একটি রামদা, একটি কিরিস ও ১০টি কালো কাপড়সহ (মুখোশ) নৌকায় থাকা খুলনা জেলার খালিশপুর থানার বড় বইড়াবৈকালী এলাকার বাসিন্দা মৃত তোফাজ্জল হাওলাদারের মেয়ে নুপুর আক্তার ওরফে হ্যাপী (২৬) এবং ডাকাত সর্দার মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে ডাকাত সর্দার মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী ডাকাতকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদে পর তার তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন গভীর রাতে ইসলামপুর থানার একদল পুলিশ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যায়। ওই অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র রিভলবার উদ্ধার করে ফেরার পথে পুলিশের নৌকাটি যমুনার কুতুবুল্লার চর (কুটিলারচর) পৌঁছুলে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য ডাকাত সদস্যরা সর্দার আলীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের নৌকা লক্ষ করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষা জন্য পাল্টা গুলি চালায়। সে সময় ডাকাতদের গুলিতেই আলী ডাকাত মারাত্মকভাবে আহত হলে তাকে পুলিশ দ্রুত ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই সময় তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

আহতরা হলেন, ইসলামপুর থানার এ এস আই মো. আঃ লতিফ. কনস্টেবল টিটু সরকার, কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম। পুলিশের দাবি মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী ডাকাতের বিরুদ্ধে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা থানাসহ বিভিন্ন থানায় ৫টি ডাকাতি, ২টি খুন, ১টি অস্ত্র ও ৪টি চুরি-মাদক মামলাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী ডাকাত গত ইউপি নির্বাচনে ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়। সে যমুনার দ্বীপচর সিন্দুরতলী গ্রামের নজর প্রামানিকের ছেলে বলে জানা গেছে। এদিকে নিহতের পরিবার পক্ষ থেকে নির্দোষ দাবি করা হলেও এ বিষয়ে যমুনার দ্বীপ চরের সাধারণ মানুষ মনে মনে খুশি। কারণ ওইসব এলাকায় ডাকাতদের নির্দয়, নিপীড়ন ও অত্যাচারে তারা অতিষ্ট।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরের মধ্যে হল বুঝিয়ে না দিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসি জানায়,ডাকাত দলের সর্দার হয়তো নিহত হয়েছে,কিন্ত অন্যরা সব রয়েগেছে। আবারও ডাকাত সরর্দার পরিবর্তনের পর তাদের অত্যাচারের মাত্র হয়তো আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ওইসব এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর বিশেষ তৎপতার দীর্ঘ স্থায়ী করার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকার সূধীজন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন