বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
৩১ °সে

১০ লাখ মুক্তিপণ টাকা দিতে রাজি হয়েছিল কামরুলে পরিবার

১০ লাখ মুক্তিপণ টাকা দিতে রাজি হয়েছিল কামরুলে পরিবার
লিবিয়ায় দালালদের গুলিতে নিহত কামরুল।ছবি: ইত্তেফাক

দালালদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়েছিলেন। পুরো পরিবার মিলে চেষ্টা করছিলেন এই টাকা জোগাড়ের। এর মাঝেই খবর এলো যার জন্য মুক্তিপণ দিবেন, সেই ছেলেই চলে গেছে না ফেরার দেশে। লিবিয়ায় দালালদের গুলিতের নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লবদি ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুলের পরিবার এই মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়েছিল।

কামরুলের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম। পরিবারের সাথে পুরো গ্রামই যেন শোকে মুহ্যমান। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তারা জানতে পারে প্রিয় সন্তান হারানোর কথা।

নিহত কামরুল ওই গ্রামের কবির শেখের ছেলে। কামরুলের স্ত্রী ও দুই বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে।

নিহত কামরুলের পিতা কবির শেখ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অভাব অনটনের সংসার। আশা ছিল ছেলেকে বিদেশে পাঠায়ে যদি একটু সুখের মুখ দেখা যায়। সেই আশা নিয়ে দালালের কথা মতো সমিতি থেকে লোন ও জমি বিক্রির সাড়ে চার লাখ জোগাড় করে গত ডিসেম্বর মাসে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন বিদেশে। ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পাশাপাশি পরিবারের সচ্ছলতার কথা ভেবেই তাকে বিদেশ পাঠানোর তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কবির শেখ। কিন্তু স্বপ্ন পূরণতো দূরের কথা উল্টো লিবিয়া থেকে দালালরা ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলো কিছুদিন যাবত।’ তিনি বলেন, ‘পাশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা গ্রামের দালাল আব্দুর রবের মাধ্যমে ভারত ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছায় কামরুল।’

নিহতের বড় ভাই ফারুক শেখ জানান, দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারী চক্রটি। ভাইয়ের জীবনের কথা ভেবে টাকা দিতে রাজিও হন তারা। সবাই মিলে সেই টাকা জোগাড় করছিল। কিন্তু টাকা পাঠানোর আগেই খবর এলো দালাল চক্র লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে।

সালথা উপজেলার নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করব ওই পরিবারকে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি, নিহতের মরদেহ আনা হবে কিনা?’ এছাড়া যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

আরো পড়ন: ‘ছাদের বাড়ি লাগবেনা, তুই ফিরে আয় বাজান’

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ্ বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’

এদিকে লিবিয়ায় দালালদের গুলিতে আহত হয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সাজিব (২৫)। সে বর্তমানে ওই দেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার কালামৃর্ধা ইউনিয়নের দোলকুন্দি গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত