বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

সিলেট-সুনামগঞ্জে আবারও পাহাড়ি ঢল, ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী 

সিলেট-সুনামগঞ্জে আবারও পাহাড়ি ঢল, ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী 
সিলেট-সুনামগঞ্জে আবারও পাহাড়ি ঢল, ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী ।ছবি: ইত্তেফাক

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্বিতীয়বারের মত আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে পাহাড়ি ঢলে গত ২৮ জুন বন্যায় তলিয়ে যায় এই দুই জেলার অনেক জনপদ, মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক,বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি।

প্রথম বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আবার ঢল ও বর্ষণে সিলেটের চারটি এবং সুনামগঞ্জের ১১ টি উপজেলাসহ ১৫ টি উপজেলায় এখন বন্যার থৈ-থৈ পানি। কোন কোন স্থানে প্রবল স্রোতে নদীর তীরবর্তী বসতভিটা ও জমি-জমা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। হাওরের ঢেউ থেকে মানুষ বাড়ি রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দিনভর ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্থানে স্থানে সড়ক, হাটবাজারে পানি। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার , জ্বালানি ও পয়ঃপনালীর তীব্র সমস্যা। সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভবনে হাঁটু পানি। করোনা পরিস্থিতিতে উপদ্রুত এলাকার মানুষ বড়ই বিপাকে।

শুক্রবার রাত থেকে ভারতের আসাম ও চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বর্ষণ ও ঢল শুরু হলে বরাক নদী ফুসে উঠে সিলেটের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীতে পানির চাপ বাড়ে। এতে অনন্ত এই দুই জেলায় ২ লক্ষাধিক লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের অনেক বাসাবাড়িতে শনিবার রাতেই পানি উঠে। পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি সড়কের ওপর দিয়ে শুক্রবারও নৌকা ও গাড়ি চলতে দেখা যায়। অনেকের রান্না ঘরে পানি উঠায় তারা নিজ বাসা ছেড়ে স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।

আরো পড়ুন: হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় আইন মানা হচ্ছে না

শহরের ষোলঘর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কদিন আগের বন্যায় ভিজে যাওয়া জিনিসপত্র শুকিয়ে নিয়েছেন মাত্র। কিন্তু শনিবার গভীর রাতে পাকা ঘরে পানি উঠে সব ভিজে গেছে।

তিনি জানান, নদীর পানি যখন তীর ডুবিয়ে শহরে ঢুকে তখন দ্রুত বের হতে পারেনা। পানি ফুলে উঠে ঘর-দোয়ারে উঠে যায়। নদী ভরাট ও অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ ও খাল নালা ভরাট করা এর জন্য দায়ী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ইত্তেফাককে জানায়, সুরমা কানাইঘাটে ১ দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার, সিলেটে দশমিক তেষট্টি সেন্টিমিটার, সুনামগঞ্জে দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, ছাতকে ১ দশমিক ৭৬ সেন্টিমিটার এবং শেওলায় কুশিয়ারা ১৩ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় শনিবার সকালে সুনামগঞ্জে ১৩৫ মি.মিটার, ছাতকে ১১০ মি.মিটার ও লাউড়ের গড়ে ২৫২ মি.মিটার ও কানাইঘাটে ৮২ মি.মিটার বৃষ্টিপাত হয়।

সিলেট জেলার নদী তীরের চারটি উপজেলার মধ্যে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন পানিবন্দী মানুষ। গ্রামীণ সড়কের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতি

সুনামগঞ্জ জেলার ১১ টি উপজেলার চারটি পৌরসভা ও ৮২টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত।বিশ্বম্ভরপুর-কাচিরগাতি,নিয়ামতপুর-তাহিরপুর,জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ,দোয়ারাবাজার-সুনামগঞ্জ,দিরাই-শাল্লার, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত