মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই পদচারণা

প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায়
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই পদচারণা
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই পদচারণা। ছবিঃ ইত্তেফাক

জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেই কোন পদচারনা। ফলে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সুবিশাল ভবন গুলো পড়ে রয়েছে অযত্নে অবহেলায় দিন দিন ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে। ভাড়া দিতে পাড়ছে না মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটও।

জানা যায়,মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) এর অধীন প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে করে প্রতিটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের সামনেই রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনীয় ম্যুরাল। ৩ তলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় করা হয়েছে মার্কেট। মূলত মার্কেটের ভাড়া দিয়ে ভবনের প্রাথমিক খরচ যোগান দিতে মার্কেট করা হয়েছে। এছাড়া ৩ তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রুম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। এসব ভবন নির্মাণের পর স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী এমনকি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াত নেই। নেই কোন পদচারণা। সারা বছর ভবন গুলো তালাবদ্ধ থাকে। মহান স্বাধীনতা বিজয় দিবসে স্বল্প সময়ের জন্য ভবন গুলো খোলা হয়ে থাকে। সে সময় গুলোতে শুধু কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাসের পর মাস অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন ময়লা আবর্জনায় ডুবে থাকে। তাই অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ভবনসহ আসবাবপত্র মূল্যবান সম্পদ। অপরদিকে ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালটিও পরিষ্কার করা হয় না। যা এ জাতির জন্য লজ্জাজনক বটে।

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ মানিকুল ইসলাম মানিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন নেই। তাই সংসদ পরিচালনার কোন কমিটি নেই। এ জন্য ভবন রক্ষণাবেক্ষণের পিয়ন নাইটগার্ড নেই। এছাড়া নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কেউ কাউকে মানতে নারাজ। তাই কেউ কমপ্লেক্স ভবন যথাসময়ে খোলা-বন্ধ করাসহ মূল্যবান সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চান না। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি বন্ধ রয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পদচারণা নেই, থাকলে ভবনটির প্রাণ ফিরে পেত। ভবন থাকতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এমন কি সাধারণত নতুন প্রজন্মের মানুষ গুলো সেখানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারতো। তাছাড়া কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকলে দোকান ভাড়া হয়ে যেত। যেহেতু দায়িত্বশীল কমিটি নেই, দোকান ভাড়া কে নিবে? আর কে দিবে,তার কোন সঠিক উত্তর না থাকায় ভাড়া হচ্ছে না বলে জানান। তিনি আরো আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার বয়স প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ বৎসর। অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধ মারা গেছেন। যে ক’জন জীবিত আছেন, তারাও হয়তো আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা যাবেন। আগামী ১০ বছর পর জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খেয়ায়ে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। তাই জীবিত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা এই অট্টালিকা ভবন যদি ভোগদখল এমনকি ব্যবহার করে আত্মতৃপ্তি নাই পায়, তাহলে মৃত্যুর পর অট্টালিকা ভবন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার লাভ কি? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি এক পর্যায়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন।

অপরদিকে এ বিষয়ে বকসিগঞ্জ উপজেলা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আলহাজ মফিজ উদ্দিন তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাগম বৃদ্ধি পেত। নির্বাচিত সংসদ কমিটির মাধ্যমে কমপ্লেক্স ভবনের মার্কেট ভাড়া দেয়া যেত,মাসে প্রায় লক্ষ টাকা আয় বৃদ্ধি পেত বলে উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত