চুরির অভিযোগে কোদাল দিয়ে কিশোরের মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন!

চুরির অভিযোগে কোদাল দিয়ে কিশোরের মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন!
কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন।ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজারের উখিয়ায় গরু চুরির অভিযোগ এনে কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন করেছে প্রভাবশালী চক্র। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

তাকে রাতভর নির্যাতনের পর শনিবার সকালে মাথা ন্যাড়া করে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিপীড়নকারী স্থানীয় জালাল আহমদ নির্যাতনের সময় ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জালাল আহমদসহ ৪ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদের বোন জোবাইদা বেগম

জোবাইদা বেগম জানান, স্থানীয় সামশুল আলমের ছেলে জালাল আহমদ বিনা অপরাধে আমার ভাই সৈয়দ আহমদকে সোনারপাড়া বাজার থেকে ধরে নিয়ে গরু চোরের অভিযোগ এনে ব্যাপক নির্যাতন করে। সারারাত বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করার নামে মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনায় আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সকালে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ রফিক ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

আরও পড়ুন: সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন গ্রেফতার

জোবাইদা বেগম আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার আমার ভাই এখন গুরুতর অসুস্থ। সে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার নাক এবং মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ কারণে আমি নিজে বাদী হয়ে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে অভিযুক্ত জালাল আহমদ সহ ৪জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিয়েছে। অভিযুক্ত জালাল আহমদ মানবপাচারসহ বহু মামলার আসামি। বর্তমানে সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ থাকায় নতুন করে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে জালাল আহমদ। তার অপকর্মের খবর পুলিশকে বলে দিয়েছে সন্দেহে আমার ভাইকে গরু চোরের অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ একজন ক্ষদ্র দোকানদার। তাকে স্থানীয় জালাল আহমদ গরু চুরির অভিযোগে বাজার থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে আমি নিজেই গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পুলিশকে তাৎক্ষণিক মৌখিক অবহিত করেছি।

তিনি আরও জানান, যে গরুটি চুরির অভিযোগ করা হয় সে গরুটি অভিযুক্তদের বাড়িতেই ছিল। তবু অপরাধী হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মারধর না করতে অনুরোধ করা হয়। এরপরও তা মানেনি। জালাল সেখানে গিয়ে উল্টো আমার সাথে বিতর্ক করে বসে। তার সঙ্গে যোগ দেয় আরও কয়েকজন। বাকবিতণ্ডার পর বাড়িতে চলে এসেছি।

শনিবার সকালে খবর পেয়েছি কোদাল দিয়ে ছৈয়দের মাথা মোড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতভর মারধরসহ অমানুষিক নির্যাতন করেছে। এমন একটি ভিডিও হাতে পেয়েছি।

মুঠোফোনে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় যাতে আর কোন সময় গরু চুরির মতো ঘটনা না ঘটে, পুরো এলাকাবাসীকে শিক্ষা দিতে এটি করা হয়েছে। তাতে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।

জালিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘নির্যাতিত ছেলেটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সে চুরির সাথে কখনো সম্পৃক্ত নন বলে এলাকায় খবর নিয়ে জেনেছি। নিপীড়ন যে করেছে তার সাথে কোন কারণে নির্যাতিত কিশোরের পরিবারের দ্বন্দ্ব ছিল বলেও খবর পেয়েছি। তার শোধ নিতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর যথাযথ বিচার দাবি করছি।’

উখিয়া থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ মন্জুর মোরশেদ জানান, আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি আমার কাছে এখনো আসেনি। এ রকম অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত