২০২২ সালে শেষ হচ্ছে না রংপুরে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ

২০২২ সালে শেষ হচ্ছে না রংপুরে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ
রংপুরে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের রুট ম্যাপ। ছবি: ইত্তেফাক

করোনায় পিছিয়ে গেছে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ। রংপুর মহানগরীর কাঙ্খিত উত্তরের এই গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনটি কাজ ডিপিপিতে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথাছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও করোনার কারণে ২০২৩ সালের জুনের আগে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে আশাবাদী জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এ প্রল্পের আওতায় (বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর) ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৫০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। একশ এমএমএসসিএফডি সিজিএস (সিটি গেট স্টেশন) ৫০ (রংপুর) এবং ২০ (পীরগঞ্জ) এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন টিবিএস (টাউন বর্ডার স্টেশন) স্থাপন করা হবে।এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ জন্য ৪৩৬ একর ৮৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হবে। মূল পাইপলাইন অংশে ছয়টি নদী ও দুটি ক্যানেল রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জিএম (প্লানিং) ফজলে আলম সাংবাদিকদের জানান, রংপুরবাসীর স্বপ্নের এই সঞ্চালন পাইপ লাইনের পাশপাশি বিতরণ লাইন নির্মাণের পৃথক একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পের আওতায় একশ কিলোমিটার থাকবে বিতরণ লাইন। এরমধ্যে রংপুর শহরে ৪৪ কিলোমিটার, পীরগঞ্জে ১০ কিলোমিটার এবং নীলফামারী ও উত্তরা ইডিজেড এলাকায় ৪৬ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ডিপিপি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়ে পরিকল্পনা কমিশনে গেছে। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর সঞ্চালন পাইপলাইনের পিডি খন্দকার আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পাইপলাইনের মালামাল ভারত, চীন এবং ইতালি থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মালামাল দেশে এসে গেছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। বগুড়া ও নীলফামারীতে চার ধারা শেষে এখন যৌথ তদন্ত শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে রংপুরে যৌথ তদন্ত চলমান, গাইবান্ধায় ডিপিও চলছে। এরপর এস্টিমেট করে অর্থ ছাড় শুরু হয়ে যাবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ এর কারণে মালামাল শিপমেন্টে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। কিন্তু মাস ছয়েক পিছিয়ে যাবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। মাঠে হয়তো দৃশ্যমান না হলেও পাইপ আনাটাও বড় একটি কাজ। যা সফলভাবে শেষ হয়েছে।

জিটিসিএল (গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি.) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, করোনার কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও আমরা সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। পাইপলাইনের মালামাল চট্টগ্রামে চলে এসেছে। রিভারক্রসিং পাইপ লাইনের টেন্ডার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বনের জমির বিষয়ে ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এখন গাছ কাটার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এটি বন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন হয়ে এলে কেবিনেটে উঠবে। আমরা আশা করছি এই প্রকল্পটিরও দ্রুত সমাধান হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত