রাজশাহীতে নারীসহ অপহরণ চক্রের ৪ সদস্য আটক

রাজশাহীতে নারীসহ অপহরণ চক্রের ৪ সদস্য আটক
পবা পুলিশ স্টেশন। ছবি: গুগলম্যাপ থেকে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে দেখতে আসা মানুষকে কৌশলে অপহরণের পর অর্থ আদায় করতো একটি চক্র। অবশেষে চক্রটির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। নগরীর পবা থানা পুলিশ এই চক্রের নারীসহ চার সদস্যকে আটক করেছে।

এরা হচ্ছে, নগরীর নওদাপাড়ার মৃত আব্দুস সামাদ তালেবের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০), অলোকার মোড় এলাকার আমিনুরের ছেলে আতিকুর রহমান বাপ্পী (২৮), নামোভদ্রার হামিম আল ফজলে নুর শুভ্র (২৮) ও পবার চৌবাড়িয়ার নার্গিস হেলেন (৫৫)।

পুলিশ জানায়, আটকরা নগরীর বাইরে থেকে আসা মানুষদের টার্গেট ও জিম্মি করে অর্থ আদায় করে। প্রায় দুই বছর ধরে রামেক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে জিম্মি ও অর্থ আদায় করছিল চক্রটি। চক্রের নারী সদস্যরা টার্গেট ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। পরে অধীনস্থ জায়গায় নিয়ে জিম্মি করে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে চাহিদামতো অর্থ আদায় করে।

রবিবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ১৯ নভেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর জাহানাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল হক (৪৩) রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চাচাকে দেখতে আসেন। সেখানেই নার্গিস হেলেন তার সাথে পরিচিত হয় এবং মোবাইল নম্বর নেয়। পরদিন সকাল ১০টায় নার্গিস হেলেন তাকে কয়েকবার ফোন দেয়। দুপুরে আব্দুল হক ফোন রিসিভ করলে নার্গিস হেলেন জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে তাকে বায়া বাজারে দেখা করতে বলে। কথামত আব্দুল হক বায়া বাজারে পৌঁছালে অটোরিকশায় নিয়ে এসে নার্গিস হেলেন তাতে উঠতে বলে। অটোরিকশায় ওঠার পর বিভিন্ন কথাবার্তার কৌশলে তাকে পবার চৌবাড়িয়ার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাড়িতে প্রবেশের পরই নার্গিস ঘরের দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে সহযোগী তিন পুরুষ আব্দুল হককে লাঠি দিয়ে মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে নার্গিস হেলেন তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় পিটিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

আরও পড়ুন: নাটোরে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

এরপর অপর একব্যক্তি তার মোবাইল থেকে স্ত্রী রহিমা বেগমকে কল দিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় আব্দুল হককে হেরোইন দিয়ে চালান অথবা ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়। ভয়ে তার স্ত্রী বিকাশে দুইবারে ২০ হাজার টাকা পাঠায়। অপহরণকারীরা ওই টাকা ক্যাশ আউট করে নিয়ে (রাজ মেট্রো-হ-১১-১৩৯০) একটি মোটরসাইকেলে করে কর্ণহার থানার করমজা মোড়ে নিয়ে আব্দুল হককে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই দিনই আব্দুল হক পবা থানায় মামলা করেন। শনিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে নার্গিস হেলেনকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ আটক করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে অপর সহযোগী রফিকুল ইসলাম, আতিকুর রহমান বাপ্পী, হামিম আল ফজলে নুর শুভ্রকে আটক এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

আসামিদের এক সপ্তাহের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক সকলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একই ধরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সুজায়েত ইসলাম, ডিসি শাহ্ মখদুম সাইফুল ইসলাম ও নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এসি

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত