রামপাল উপজেলায় চার শিক্ষকের নিবন্ধন সনদই ভুয়া

রামপাল উপজেলায় চার শিক্ষকের নিবন্ধন সনদই ভুয়া
রামপাল উপজেলায় চার শিক্ষকের নিবন্ধন সনদই ভুয়া।ছবি: গুগুল ম্যাপ থেকে

বাগেরহাটের রামপালে ভুয়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরি পেয়ে লাখ লাখ টাকার সরকারি বেতনভাতার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ওই চার ভুয়া শিক্ষকের মধ্যে একজন কলেজের, একজন মাদরাসার ও দুইজন মাধ্যমিকের। এদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রামপাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রামপাল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন ২৫৫ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশব্যাপী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই-বাছাই এর কাজ চলছে। এরই অংশ হিসাবে রামপাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের সনদে চাকরি পাওয়া ওই ২৫৫ জনের সনদ যাচাই-বাছাই করে চারজন শিক্ষকের সনদ ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে। ওই চারজনের মধ্যে একজন অসীত বিশ্বাস। তিনি ভুয়া নিবন্ধন সনদে চাকরি করেন ভাগা সুন্দরবন মহিলা কলেজের প্রভাষক কম্পিউটার অপারেশন পদে। তার নিবন্ধন রোল নম্বর ছিল-৪২৭১৫২৪০। তিনি ২০১০ সালের ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হন। দুই বছর পর তিনি বিগত ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওই পদে নিয়োগ পেয়ে সরকারি বেতনভাতার সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।

কারিমা খানম সহকারী মৌলভী পদে ভুয়া নিবন্ধন সনদে চাকরি করেন উপজেলার মল্লিকের বেড় ফাজিল মাদরাসায়। তার নিবন্ধন রোল নম্বর ছিল ১০৭১১৬৮৪৯। তিনি ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হন। দুই বছর পর তিনি ভুয়া সনদে বিগত ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চাকরি নিয়ে সরকারি বেতনভাতার সুবিধা নিয়ে আসছেন। ভুয়া সনদ শনাক্ত হওয়ায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান তার বিরুদ্ধে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

নাম তার শাহানারা খাতুন। তিনি ভুয়া নিবন্ধন সনদে সহকারী শিক্ষক ইসলাম শিক্ষা পদে চাকরি করেন উপজেলার পেপুলবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ২০০৮ সালে ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হন। তার রোল নম্বর ছিল ১০৭১৭২১৮। বিগত ২০১০ সালের ২৯ মার্চ ওই পদে নিয়োগ পেয়ে সরকারি বেতন ভাতার সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

আরো পড়ুন: তামিম তান্ডবে বরিশালের জয়

মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদে বিগত ২০০৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পেড়িখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাব বিজ্ঞান পদে চাকরি করে আসছেন। তার নিবন্ধন রোল নম্বর ছিল ৩১১১০০৪২। তিনি ৩য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে অনুত্তীর্ণ হন। সনদ যাচাই-বাছাই শুরু হলে বিষয়টি টের পেয়ে তিনি গত ৫/১১/২০২০ তারিখ পদত্যাগ করে বিদ্যালয় ছেড়ে গেছেন।

জানা গেছে, এনটিআরসিএ সনদে এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া ২৫৫ জনের সনদ যাচাই করে ৪ জনের সনদ ভুয়া শনাক্ত হয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই চারজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও বাকি তিন জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউর হক জানান, এ পর্যন্ত এনটিআরসিএ এর সনদে এ উপজেলায় নিয়োগ পাওয়া ২৫৫ জনের সনদ যাচাই করে ৪ জনের সনদ ভুয়া শনাক্ত করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি ও প্রধান শিক্ষক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ইত্তেফাক/এএএম

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত