‘স্বপ্ননীড়’ ঘিরে সিলেটে আনন্দ-উচ্ছ্বাস

‘স্বপ্ননীড়’ ঘিরে সিলেটে আনন্দ-উচ্ছ্বাস
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এই বাড়িগুলো দেওয়া হবে। ছবি: ইত্তেফাক

সিলেট বিভাগের চার জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন আড়াই হাজারেরও বেশি পরিবার, নতুন ঠিকানা স্বপ্ননীড়ে উঠার আনন্দে এখন বিভোর। চোখে মুখে তাদের উচ্ছ্বাস।

এতোদিন যাদের ঠিকানা ছিলো গাছের তলায়, কোনো অফিসের বারান্দায় বা কারো চিলে কোঠায়। তারা এখন পাচ্ছেন স্থায়ী একখানা আবাস। যেখানে কনকনে শীত, দাবদাহ গরম বা বর্ষার অঝোর ধারা স্পর্শ করতে পারবে না।

এখন ওই সব হত দরিদ্র পরিবারগুলো সরকারে দেয়া স্বপ্ননীড়ে উঠার অপেক্ষায়। এতোদিন যা ছিল স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই এখন তাদের হাতের মুঠায়। স্থানে স্থানে সারিবদ্ধ লাল ও সবুজ রঙের টিনের সেমিপাকা ঘরগুলোকে এলাকাকে আরও মহনীয় করে তুলেছে। দৃষ্টি এড়ায় না পথিকদেরও।

আরও পড়ুন: সিলেটে বহুল প্রত্যাশিত ই-পাসপোর্ট সেবা পুরোদমে চালু

‘আমরা ভীষণ খুশি। শেখ হাসিনা মাথাগোঁজার ঠাঁই দিয়েছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করি,’ এমন মন্তব্য করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের পাশেই সুরমা নদীরপাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া ঝুনু বেগম।

সিলেট দক্ষিণসুরমা দাউদপুর গাঙ্গপারের আলাউদ্দিন ও স্ত্রী মরিয়ম বেগম খুশি বলেন, ‘বয়স অইছে, কাজ করতে পারি না। ঠিকানাতো পেলাম। খুশির কথা ভাষায় বুঝাতে পারবো না।’ প্রায় একই মন্তব্য করেন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানিক মিয়া, কান্দিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের লাভলী বেগমসহ অনেকেই।

সিলেট বিভাগে ৯ হাজার ৯৪৮ ভূমিহীন পরিবারের জন্য আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ২ হাজার ৬৬৮ ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১ হাজার ৪০৬, সুনামগঞ্জে ৪০৭, হবিগঞ্জে ৩১৩ এবং মৌলভীবাজারে ৫৪২টি ঘর শনিবার উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপের ঘরগুলো শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফজলুল কবীর জানান, বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় ৪ হাজার ১৭৮, মৌলভীবাজার জেলায় ১ হাজার ৭৫, হবিগঞ্জে ৭৮৭ ও সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৯০৮ ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গৃহ ও ভূমিহীনদের তালিকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। ২ শতাংশ ভূমিতে সেমিপাকা ঘরে দুটি শোবার ঘর, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম সংবলিত ঘরে উঠবেন ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব পরিবার।

প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া, আসবাবপত্র বহনের জন্য আরও ৪ হাজার টাকা করে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৬৮টি গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নতুন ঘর তৈরি শেষে বাকিদের পর্যায়ক্রমে ঘর হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার পরও সিলেটের পর্যটন এলাকাতে মানুষের ভিড়

সিলেটে জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম জানান, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমি ও গৃহহীন এক হাজার ৪০৬টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা বাড়ি, স্বপ্ননীড়ে শনিবার ঠিকানা পাবেন।

তিনি জানান, এ প্রকল্পের আওতায় সিলেট জেলায় তৈরি ভূমি ও গৃহহীন ৪ হাজার ১৭৮টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন। ইতোমধ্যে এক হাজার ৪০৬টি ঘর প্রস্তুত করে উপকারভোগীদের মাঝে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ঘরের চাবি পাবেন তারা।

এদিকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া জানালেন, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার ৪০৭টি ঘরও থাকবে। শুধুমাত্র দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১৫২টি ঘর নির্মাণ করার কথা থাকলেও বিজ্ঞ আদালতের স্থগিতাদেশের জন্য এ নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জে মোট ৩ হাজার ৯০৮টি ঘর তৈরি করা হবে। আমরা আশাকরি আগামী মার্চে মাসের মধ্যেই ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x