ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
৩২ °সে

তাহিরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে দুর্ভোগ

তাহিরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে দুর্ভোগ
তাহিরপুরে বন্যায় ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ি। ছবি: ইত্তেফাক

তাহিরপুর উপজেলার বন্যাপ্লাবিত নিম্নাঞ্চলে গত দুদিনের রোদে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। গত দুই সপ্তাহের অতিবৃষ্টির ফলে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ রয়েছে এখনো পানিবন্দি। এসব পানি বন্দী মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দ বন্যা দুর্গতদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সবচেয়ে বেশি বন্যা আক্রান্ত উপজেলা তাহিরপুর উপজেলা। এ উপজেলার বেশিরভাগ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। উপজেলার সীমান্ত এলাকা বড়ছড়া, চাঁনপুর, লাকমা, লালঘাট, বাশতলা, চারাগাও, জঙ্গলবাড়ী, কলাগাও সহ ১০টি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে ভিটে ছাড়া হয়ে অন্যত্র বসবাস করছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালি পড়ে আনুমানিক ৫শ হেক্টর আমন জমি বালির নিচে চাপা পড়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তাহিরপুর সদর ,দক্ষিণ বড়দল, উত্তর বড়দল, শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, বাদাঘাট, বালিজুড়ি সহ ৭টি ইউনিয়নের ২৪৪ টি গ্রামের মধ্যে বেশির ভাগ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে।

উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুরের প্রায় ১০টি গ্রামের প্রায় ২শতাধিক ঘর-বাড়ি হারিয়ে ভিটা ছাড়া হয়েছে ২শ পরিবার। ভেসে গেছে দুই শতাধিক পুকুরের প্রায় কোটি টাকার মাছ।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চারাগাও শুল্ক স্টেশন সংলগ্ন চারাগাওএলাকার প্রায় ২০টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

চারাগাও গ্রামের সালাম, জামাল উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, কুতুব উদ্দিন, রাবিয়া খাতুন, হারিছ মিয়া, বজলু মিয়া, লালু মিয়া, সরাজ মিয়া, আঃরশিদ, সাইদুল ইসলাম, আছিয়া বেগম, আমিন খারমা, তারা মিয়া, সাইকুল ইসলাম, জলিল মিয়া, জঙ্গলবাড়ীর মারফতআলী, চাঁনমিয়া, জালাল মিয়া, সাদ্দাম, খোকন মিয়া, আকবত আলীসহ শতাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের অনেকে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।এখন র্পযন্ত তারা পাননি সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা। যার কারণে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে খেয়ে না খেয়ে।

হাওরাঞ্চলের এখনও ৫০ হাজারের অধিক মানুষ রয়েছেন পানিবন্দি ।এসব পানিবন্দি মানুষের অনেকেই পাননি ত্রাণ সহায়তা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসনের উদ্য্যোগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা তহবিল হতে যেসব ত্রান সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা তুলনায় খুবই নগণ্য।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ জেলা ও প্রশাসনের উদ্যোগে ২ হাজার ৬শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। শুকনো খাবারের প্যাকেটের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী মনে করেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে বন্যার পানিতে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন