বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৯

বন্যার পানিতে ভে‌ঙে যাওয়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‌সেনাবা‌হিনী ও পাউ‌বো যৌথভা‌গে জিও ব্যাগ ফেলা‌র কাজ শুরু ক‌রে‌ছে। শুক্রবার সকাল থে‌কে কাজ শুরু করা হয়। এর আ‌গে বৃহস্প‌তিবার রা‌তে ভুঞাপুর -তারাকা‌ন্দি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত নলীন-পিংনা-যোকারচর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভে‌ঙে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তীব্র স্রো‌তে ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ি নামক স্থানে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে সড়ক‌টি ভেঙে যায়। ফলে ভূঞাপুর পৌরসভা ও ফলদা ইউনিয়নের ৭/৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভূঞাপুরের সঙ্গে তারাকান্দির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরব‌ঙ্গসহ বি‌ভিন্ন এলাকার সঙ্গে এই  সড়ক দি‌য়ে  তারাকা‌ন্দিবাসীর যাতায়াত বন্ধ র‌য়ে‌ছে। পূর্ব থে‌কে ভাঙন‌রোধে সং‌শ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্ত‌রিক হ‌লে সড়‌কটি ভাঙ‌নের হাত থে‌কে রক্ষা পেত। 

ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শে‌ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি রাস্তা তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার জন্য এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। বিধায় জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ ফেলে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হবে। যমুনার পশ্চিমাংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, পূর্বাংশে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। বকশিগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ভাঙনরোধে সার্ভে করে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বন্যায় জলাবদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, একযোগে কাজ করছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশরী সিরাজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে সড়ক‌টি হুমকির মুখে ছিলো। সেটি মেরামত করার তৎপরতা চলছিলো। হঠাৎ করেই রাতে টেপিবাড়ি অংশে ভেঙে যায়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সেনাবাহিনী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। সকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সাংসদ ছোট মনির, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গাছ থেকে পড়ে স্কুলছাত্র নিহত

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রন কক্ষ সূত্র জানায়, যমুনার নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ১১১টি গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকার ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু