ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


উপনির্বাচন রংপুর-৩: প্রার্থীরা মাঠে, নীরব ভোটার

উপনির্বাচন রংপুর-৩: প্রার্থীরা মাঠে, নীরব ভোটার
রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা প্রচারে মাঠে নেমেছেন। ছবি: ইত্তেফাক

জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা প্রচারে মাঠে নেমেছেন। তবে সাড়া কম সাধারণ ভোটারদের। জাতীয় পার্টির অন্ত কোন্দল, বিএনপিতে বহিরাগত প্রার্থী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভোটের আমেজ খানিকটা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল বুধবার থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া জাপার প্রার্থী সাদ এরশাদ (লাঙল) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমানের (ধানের শীষ) পক্ষে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখনও প্রচারণায় নামেনি।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার (মোটরগাড়ি) বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগসহ প্রচারণা চালিয়েছেন। মোট ছয়জন প্রার্থী এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাপা, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও বাকি প্রার্থীরা হলেন, গণফ্রন্টের কাজী মো. শহিদুল্লাহ (মাছ), খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (দেওয়াল ঘড়ি) ও এনএনপির শফিউল আলম (আম)। প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন এ প্রার্থীরাও।

বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর শিমুলবাগ কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন। এ সময় হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন জাপার প্রার্থী রাহগীর আল মাহি সাদ। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পল্লী নিবাসে বাবা এইচএম এরশাদের কবর জিয়ারত করে তিনি ঘোষণা দেন ‘শুধু রংপুরের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশে পিতার (এরশাদের) অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য নির্বাচন করছি।’

সাদ এরশাদ বুধবার প্রচারের মাঠে নেমে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, মডার্ন মোড়, তাজহাট, দমদমা এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। এ সময় জেলা জাতীয় পাটির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ছিলেন না। সমর্থন দিলেও তার সঙ্গে দেখা যায়নি তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

আরও পড়ুন: মসজিদের শহরকে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করেছে সরকার

অপরদিকে এরশাদের ছোট ভাইয়ের ছেলে সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি গতকাল নগরীর এরশাদনগর, তাজহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘রংপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে লাঙল প্রতীকের একটি সম্পর্ক ছিল। কিন্তু লাঙল প্রতীক বরাদ্দ দিতে যেহেতু তারা বাইরের মানুষকে নিয়ে এসেছে তাই রংপুরের মানুষ তাকে মেনে নিচ্ছে না। সে সুযোগটা আমি নেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ আমি এরশাদের পরিবারের সন্তান এবং রংপুরে থাকি। তাই ভোটাররা আমার পক্ষে থাকবে প্রত্যাশা করি।’

অপরদিকে শতভাগ জয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমাদের প্রার্থী সাদ এরশাদ। আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন দিয়েছে। আমরা রংপুরবাসী বার বার লাঙল ও এরশাদকে ভোট দিয়েছি। এবার তার পুত্র সাদকে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী করব। আমরা প্রমাণ করব রংপুর মানেই এরশাদ ও লাঙল।

তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর এই আসনে দলের প্রার্থী দেওয়ায় তারা উজ্জীবিত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ বড় একটি অংশ এই নির্বাচনে সাদকে বর্জনের ডাক দিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলীয় প্রার্থীকে সরিয়ে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তবে ওই নির্বাচনে রিটা রহমানের পক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামেনি। অংশ নেয়নি প্রচার-প্রচারণায়। এবারও তাই ঘটছে। এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে দ্বন্দ্ব আছে। ভোটযুদ্ধের প্রচারণায় হেভিওয়েট প্রার্থী সাদ এরশাদ ও রিটা রহমানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ স্থানীয় হিসেবে রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। এই আসনে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর।

ইত্তেফাক/অনি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন