‘পরাক্রম দিবস’ নিয়ে মমতার প্রশ্নের উত্তর দিলেন মোদি

‘পরাক্রম দিবস’ নিয়ে মমতার প্রশ্নের উত্তর দিলেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় আসলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতায় এসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে 'পরাক্রম' দিবসের সূচনা করেন তিনি। এরপর তার সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

করোনা বিধি মেনে মঞ্চে এবং মঞ্চের সামনে দু’জনের আসন পাশাপাশি থাকলেও দূরত্ব ছিল। সাধারণত পাশাপাশি আসন থাকলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পরস্পরের সঙ্গে ঝুঁকে পড়ে কথা বলেন মোদি এবং মমতা।

মোদি প্রথমে যান এলগিন রোডে নেতাজির বাসভবনে। নেতাজির বাসভবন নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর সদর দফতর। সেখানে ১৫ মিনিট থাকেন তিনি। এরপর দুপুরে ন্যাশনাল লাইব্রেরি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গ্যালারিতে নেতাজির জীবনের সমস্ত দিক তুলে ধরা হয়েছে। ছবি তুলেছেন তিনি। লাইব্রেরি চত্বরে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মোদীর পরের গন্তব্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। বিকেলে ভিক্টোরিয়ার পথে রওনা দেন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য।

কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠান মঞ্চে ‘পরাক্রম দিবস’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অভিধান বলছে, শৌর্য, বীর্য, শত্রুকে পরাজিত করা – এই সব কটি শব্দের সমার্থক ‘পরাক্রম’। অর্থাৎ এই শব্দ দিয়ে বীরত্বকেই বোঝানো হয়। পরাক্রমের সবকটি বিশেষণই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্য সুপ্রযুক্ত বলেই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি বললেন, ”এসব আমাদেরও পরাক্রম অর্থাৎ আমাদের দাপট এবং একইসঙ্গে আমাদের প্রেরণাও।” পাশাপাশি, তিনি ঘোষণা করলেন, প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি অর্থাৎ নেতাজির জন্মদিন গোটা দেশে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।

আরও পড়ুন: কলকাতার পথে মোদি

মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূর্ণেন্দু বসু সহ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১৩ জন। তারপর সুগত বসুর সঙ্গে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। চন্দ্র বসু বা বিজয়বর্গীয় কেউই বাড়ির ভিতর ঢোকেননি। ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ২টো বেজে ৫৯ মিনিট। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উড়ল হেলিকপ্টার।

২৩ জানুয়ারিকে পরাক্রম দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নেতাজির জন্মদিবসকে দেশনায়ক দিবস হিসেবে উদযাপন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বললেন, সমস্ত কিছুতে বিরোধিকা করা উচিৎ নয়। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x