মিটার টেম্পারিং করে দেড় কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৫

মিটার টেম্পারিং করে নিজের ১০ তলা ভবনের জন্য বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ পাওয়ায় ডিপিডিসির এক স্টোর কিপার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫৯ টাকার বিদ্যুৎ চুরির দায়ে মামলা করেছে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিপিডিসি। অভিযানে তার ভবন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছে ডিপিডিসি। আব্দুল্লাহ আল মামুন পোস্তগোলার ডিপিডিসির স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বিদ্যুৎ কর্মচারী হয়েও অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিলকে ভুয়া উল্লেখ করে তার স্ত্রী দ্বারা বিভিন্ন দপ্তরে আব্দুল্লাহ আল মামুন আবেদন করছেন বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা। বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা ও ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলস্থ আল হেরা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামক ভবনে (যার বিদ্যুৎ গ্রাহক নং-১৫১৫২২৭০) অভিযান চালায় ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্স দল। অভিযানে আসা দল এ সময় আব্দুল্লাহ আল মামুনের ১০ তলা ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহের মিটার টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরির প্রমাণ পায়। মিটার টেম্পারিং করে তিনি ৫ লাখ ৮ হাজার ৫৮৬ ইউনিট বিদ্যুৎ কারচুপি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়। যার জরিমানার বিলের পরিমাণ ১ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫৯ টাকা। ৮ নভেম্বরের মধ্যে উক্ত বিল পরিশোধের জন্য ডিপিডিসি সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিট থেকে তাকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হলেও তিনি ঐ বিল জমা দেননি। পরবর্তী সময়ে ১৮ নভেম্বর ডিপিডিসি এনওসি সিদ্ধিরগঞ্জ বাণিজ্যিক কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন বিদ্যুতের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী মমতাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা ও বিদ্যুত্ চুরির ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানতে তার ভবনে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই ভবনের একাধিক বাসিন্দা জানায়, ঘটনার পর থেকে তাদের ঐ ভবনে দেখা যাচ্ছে না।

ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ বাণিজ্যিক কার্য্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান জানায়, মিটার টেম্পারিং ও বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা অবহিত হয়ে ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্স দল অভিযান চালিয়েছিল। বিদ্যুৎ চুরি ও মিটার টেম্পারিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ ১ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫৯ টাকা নভেম্বরের ৮ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ওই টাকা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। একই সময় আমরা ঐ ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছি।

ইত্তেফাক/বিএএফ