শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নিজের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতা করছেন ইমা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:০০

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে একজন নারী শুধু চাকরির বাজারে নয়, বরং নিজে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নারীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের নারীরাও কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। তারা তাদের নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘরে বাইরে সব পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। অনলাইন ব্যবসায়ের প্রবর্তনের ফলে নারীরা আরও বেশি পরিমাণে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হচ্ছে। তেমনি একজন ময়মনসিংহের ইশরাত দৌলা ইমা।

ব্যবসায়ী বাবা ও গৃহিণী মায়ের মেয়ে ইমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহ শহরে। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী স্কুল থেকে এসএসসি ও মুমিনুন্নিসা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ভর্তি হন ইমা। স্নাতক করেছেন ফার্মেসী বিষয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষ পড়াকালীন বিয়ে হয়ে যায় ইমার। তারপর সংসার বাচ্চা এগুলো করতে গিয়ে চাকুরী করার সুযোগ পাননি তিনি। তবে সব সময়ই নিজের থেকে কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিলো তার মনে। সেখান থেকেই পথচলা শুরু। 

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার বিষয়ে ইমা বলেন, বিয়ের পর সংসার-সন্তান এগুলো করতে গিয়ে চাকুরী করার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সবসময় মাথায় থাকতো আমাকে কিছু করতে হবে। ২০১৩ সালে মেকআপের উপর একটা কোর্স করি। কিন্তু সংসার সামলাতে গিয়ে তখন কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু কিছু করবার ইচ্ছা আমার সবসময় মাথায় ঘুরতো। ২০১৭ তে প্রথমে আমি কাপড় নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বুঝলাম এটা আমার কাজ না, আমাকে ব্লগিং এর নেশা টানতো। মেকআপটা আমার প্যাশন ছিল। ২০১৮ তে ‘মেক আপ ডিভা'স বাই ইশরাত’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পেইজ ওপেন করি। এর পরে আরও ২টা মেকাপ কোর্স করি। পেইজে মেকআপ নিয়ে লাইভ করতাম। এরপর কিছু স্টুডেন্ট আশা শুরু করলো। তাদের মেকআপ কোর্স করানো শুরু করলাম। তাদের চাহিদা মত কিছু মেকআপ প্রোডাক্ট ও রাখা শুরু করলাম।

তিনি বলেন, শুরুতে শহরে তেমন পরিচিতি পাচ্ছিলাম না। পরিবার থেকেও তেমন সাপোর্ট পাচ্ছিলাম না। আমার স্বামী সাপোর্ট করেছে। কিন্তু নানা সময় নানা রকম মানুষের কথায় আবার নাও করতো অনলাইনে কাজ না করতে। তবে আমি হাল ছাড়ে দেইনি। কোনো না কোনো ভাবে লেগেই ছিলাম। কারণ আমার মনে বিশ্বাস ছিল আমি পারবো। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই আজ আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। খুব শীঘ্রই আমার পেইজের নামে আমার নিজের একটি শোরুম ওপেন হতে যাচ্ছে শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনার পাড়ে।

তিনি আরও বলেন, নিজের ব্যবসাটাকে এফ কমার্স ভিত্তিক তারপরও এটা কিভাবে ই কমার্স ভিত্তিক করা যায় চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিজে একটা গ্রুপ ওপেন করেছি ‘ই কমার্স পয়েন্ট এন্ড শপিং কার্ট ময়মনসিংহ’ নামে। যাতে করে ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের নারী উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে পারেন। এই গ্রুপের বর্তমান সদস্য প্রায় ২৩ হাজারের কাছাকাছি। এই গ্রুপে একসঙ্গে ২০০জনের মত উদ্যোক্তা তাদের উদ্যোগকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারে। এজন্য প্রায়ই অনলাইনে ফ্রি অফ কষ্টে কিছু মেলার আয়োজন করে থাকি। গ্রুপের সকল মেম্বারকে নিয়ে সামনে অনেকদূর যেতে চাই। 

ইমা আরও বলেন, আমাদের দেশের অনেক নারী আছেন যারা ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি করতে পারছেন না কিন্তু তারা স্বাবলম্বী হতে চান। সেদিক থেকে ই-কমার্সের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ই-কমার্সের সুবিধা হল- অল্প পুঁজিতে এমনকি বিনা পুঁজিতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ব্যবসা করা যায়। ই-কমার্স মেয়েদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ই-কমার্স। এই সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তা আমাদের দেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবন সৌন্দর্যে পূর্ণ। মৌমাছির দিকে তাকাও, শিশুদের হাসি মুখের দিকে তাকাও। বৃষ্টির ঘ্রাণ নাও, বাতাসের স্পর্শ নাও। জীবনকে পূর্ণ ভাবে উপভোগ করো, আর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রয়োজনে লড়াই করো। নতুন লক্ষ্য স্থির করা বা নতুন স্বপ্ন দেখার জন্য বয়স কোনও বাধাই নয়।

ইত্তেফাক/ইআ