মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘শিল্পে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ নেই’

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০০

এ দেশের কথাসাহিত্যের অঙ্গনে যে কয়জন লেখক দুস্থ-বিপন্ন, শোষিত, নির্যাতিত মানুষের জীবন সংগ্রামের পটভূমিতে কথামালা সাজিয়েছেন, সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবাদী সাহিত্য রচনা করেছেন, ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ তাদেরই একজন। বাংলা সাহিত্যে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। বরেণ্য এই কথা সাহিত্যিকের মুখোমুখি হয়েছেন— দিলরুবা খান

মহিলা অঙ্গন : এবারের বইমেলায় আপনার কী কী বই বেরিয়েছে?

ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ :একুশটি ছোটগল্পের সংকলন ‘নন্দন কাননে বৃষ্টি বিন্দু’। অপরটি ‘জীবনের আতর গোলাপ’। এছাড়া আরেকটি উপন্যাস ‘আমি দ্রৌপদী’। মেলায় আসছে শিশুতোষ বই ‘ইভানের কাজলা দিদি’ ও ‘শ্রী শ্রী লক্ষ্মী দেবীর পাঁচালি’।

মহিলা অঙ্গন : লেখালেখি করতে গিয়ে কখনো বাধার সৃষ্টি হয়েছে?

ঝর্ণা :সংসার, স্বামী-সন্তান কখনো লেখালেখির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমার লেখালেখির ব্যাপারে স্বামী ছিলেন প্রথম ও প্রধান সহযোগী। কখনো রান্না কিংবা সাংসারিক কাজে ব্যাঘাত ঘটলেও স্বামীর বিন্দুমাত্র অভিযোগ ছিল না। কিন্তু লিখতে না বসলে মনঃক্ষুণ্ণ হতেন। আমার লেখার প্রথম পাঠক এবং সমালোচকও তিনি। লেখাটা পত্রিকায় পাঠানোর দায়িত্বেও তার ছিল অপার ভূমিকা। এমনকি লেখাটা পাঠানোর আগে সেটি পড়ে দেখতেন। কখনো বলতেন, এই জায়গাটা ঠিক হয়নি কিংবা আর একটু অন্যরকম হলে ভালো হতো। আমার স্বামী প্রচুর বই এনে দিতেন পড়ার জন্য। কলকাতা গেলে অন্য কোনো বাজার তিনি করতেন না। কোলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে প্রচুর বই এনে দিতেন।

মহিলা অঙ্গন : লেখালিখির শুরুটা কবে থেকে?

ঝর্ণা :সেই ছোট বেলায়। স্কুলের রাফ খাতায় ছড়া, টুকরো টুকরো কথা, ভাব-ভাষা সব লিখতাম। কিন্তু প্রথম আমার লেখা গল্প ‘বাদল দিনে’ ছাপা হয়েছে দৈনিক সংবাদের খেলাঘর পাতায়।

মহিলা অঙ্গন : প্রথম লেখা ছাপা হওয়ার অনুভূতি কেমন?

ঝর্ণা : মনে হচ্ছিল আমি যেন স্বপ্নের জগতে ভাসছি। তারপর আমার সে লেখা দেখে বাবামায়ের পাশাপাশি আত্মীয়-পরিজনের প্রশংসায় সত্যি আপ্লুত হয়েছিলাম।

মহিলা অঙ্গন : কেমন বইমেলা চান?

ঝর্ণা : যে মেলায় সৃজনশীল, বিশ্ব সাহিত্যের ক্ল্যাসিক, শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, প্রবন্ধ, গবেষণামূলক গ্রন্থ থাকবে, নতুন বইয়ের সোদা-ফ্লেভার নিয়ে আমি ঘরে ফিরতে পারব। এখন করোনাকাল চলছে, তাই মাস্ক এবং স্যানিটাইজের বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে সবার। যাতে সুরক্ষিত থাকা যায়।

মহিলা অঙ্গন : এবারের বইমেলা সম্পর্কে আপনার মতামত?

ঝর্ণা :বিগত দিনের বই মেলার চেয়ে এবারের বইমেলার চালচিত্র অন্যরকম। মেলার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি সুবিন্যস্ত, গোছালো পরিপাটি। আগের মতো ধুলো-বালিতে একাকার হতে হয় না। তবে আমাদের তরুণ-কিশোররা যাতে মেলায় ঘুরে ঘুরে বই কিনতে পারে, সেজন্য আরো বেশি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মহিলা অঙ্গন : প্রিয় লেখক ও কবি?

ঝর্ণা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মহিলা অঙ্গন : বাংলাদেশে লেখক জগতে লিঙ্গবৈষম্য কতটুকু?

ঝর্ণা :শিল্পের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ আছে বলে আমি মনে করি না। নারী লেখক মানেই সৃষ্টিশীল। তবে সৃষ্টির তুলনায় তাদের প্রচার অনেক কম। নারী লেখকের বই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও খুব কম হয়। প্রকাশিত বইয়ে তাদের নাম সংযোজিত হয় না বলে পাঠকরা সঠিকভাবে জানতে পারেন না তাদের মনকাড়া লেখার কথা।

মহিলা অঙ্গন : অবসরে কী করেন?

ঝর্ণা : লেখালেখি, গান শোনা, শখের বাগানের পরিচর্যা ও রান্না করতে ভালো লাগে।

মহিলা অঙ্গন : আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ঝর্ণা : ধন্যবাদ আপনাকেও।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সফুরা খাতুন : ভাওয়াইয়া গানের এক অনন্যা নারী গীতিকার

দায়িত্বই আমার কাছে সবচেয়ে বড়: ডা. ফেরদৌস

‘শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম, বাবার ইচ্ছায় চিকিৎসক হয়েছি’

নেট দুনিয়ায় হেনস্তার শিকার নারীরা 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শখ থেকে শুরু করা ‘শেডস’

সবজি চাষ করে সফল ৫ হাজার নারী