খুলনা শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়া ও গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। খুলনা শিশু হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ছুটছেন।
শীতের পর মার্চের শেষ দিকে এসে গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। খুলনাসহ আশপাশের জেলার অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য তাদের অভিভাবকরা ভিড় করছে খুলনা শিশু হাসপাতালে। তাদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিত্সকসহ সেবিকারা। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসছে। শারীরিকভাবে যাদের অবস্থা বেশ খারাপ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া শস্যাসংকটের কারণে বাকিদের অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পিরোজপুর ইকড়ি গ্রামের তানভীর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ দিন ধরে শিশু হাসপাতালের তৃতীয় তলায় চিকিৎসা নিচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে মা তানিয়া বেগম। তিনি বলেন, এখানে আসার কয়েক দিন আগ থেকে তানভীর জ্বরে আক্রান্ত হয়। বাড়ি থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ালেও তার শরীর থেকে জ্বর নামেনি। সঙ্গে খুসখুসে কাশি ছিল। এখানে এসে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারলাম, আমার শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। প্রথম দিকে রোগীর চাপে এখানে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমানে একটু চাপ কম কমেছে। শিশুটির অবস্থাও আগের তুলনায় বেশ ভালো।
এক বছর দুই মাস বয়সী শিশু রায়হান। গত এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ শিশু সন্তানকে নিয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে অবস্থান করছেন মা রেখা বেগম। রেখা বেগম জানান, হাসপাতালে আসার আগে বেশ কয়েকবার পাতলা পায়খানা হয়েছে তার। অবস্থা খারাপ হলে তাকে নিয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে চলে আসেন তিনি। ডাক্তার তাকে বলেছেন, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে শিশুটির এ অবস্থা হয়েছে। খুলনা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ২৭২ শয্যা নিয়ে চলছে খুলনা শিশু হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। গত কয়েক দিন ধরে এ হাসপাতালে শিশু রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ১৪-১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগ ছাড়াও বরিশাল বিভাগ থেকেও চিকিৎসাসেবা নিতে রোগীরা এখানে আসছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
