বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ওয়ার্ক ফর বেটার সোসাইটি অর্গানাইজেশনের বিদ্যাসভা

ভাসমান শিশুদের ভবিষ্যতের ভিত্তি

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ১৮:১৯

করোনা মহামারী পরবর্তীসময়ে সমগ্র সারাদেশে বহু ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সেই স্থবিরতা যেন কাটেনি এখনো। যেখানে স্বাভাবিক শিশুদেরই তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়নি, সেখানে ভাসমান শিশুদের নিয়ে ভাবাটা তো অনেকটাই অসম্ভব।

সেই ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে 'ওয়ার্ক ফর বেটার সোসাইটি অর্গানাইজেশন' এর বিদ্যাসভা, যারা ভাসমান শিশুদের ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। সামাজিক সংগঠনটি তাদের অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বের সাথে বিদ্যাসভা পরিচালনা করছে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলে শিশুরা তার অস্থিমজ্জা। সেই অস্থিমজ্জার সুস্থতা এবং পারিপার্শ্বিকতা নিশ্চিতের জন্যে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সঠিক পরিকল্পনা। অথচ কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাই এগিয়ে আসতে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে।

বিদ্যাসভার পাঠদান কার্যক্রম

বিদ্যাসভা ভাসমান ও গৃহহীন শিশুদের পরিচর্যার কাজ করে। রাজধানীর উত্তরার বাউনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে এখন হাতেকলমে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে ৬৭ জনের মতো পথশিশু।

প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান এবং গ্রুমিংয়ের সাথে সরাসরি জড়িত আছেন ২১ জন তরুণ-তরুণী। নেটওয়ার্কিং এর সাথে জড়িত আছেন অন্তত ২০০ জন। এই সবকিছুই একসাথে সামলে রেখেছেন ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম। ব্যক্তিগত জীবনে মঞ্চনাটক, ওয়েব ফিল্ম, এবং পেশাদার বাস্কেটবলের পাশাপাশি নিজের শ্রমের সিংহভাগ ব্যয় করছেন বিদ্যাসভায়।

উদ্দেশ্য এই ভাসমান শিশুদের ক্ষমতায়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধি। বিষয়টি যে নিঃসন্দেহে দারুণ তাতে সন্দেহ নেই। হয়তো কাজটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই ভাসমান শিশুদের পাঠদানের প্রক্রিয়াটি অভিনব বটেই।

লেখাপড়ায় আগ্রহ বৃদ্ধিই বিদ্যাসভার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বরং এই প্রতিষ্ঠানের হাতেখড়ি যেন এই শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ধরে রাখায় দৃঢ়চেতা করে তোলে তাই এর উদ্দেশ্য। আনিকা এক সাক্ষাৎকারে জানান, এখানে গ্রুমিং শেষে তারা একটি স্কুলে তাদের ভর্তি করিয়ে দেবেন।

তবে এই কাজের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আনিকা তাবাসসুম জানান, যেহেতু সরকারি কোনো সহায়তা নেই তাই কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতেই হয়। তবুও এ নিয়ে কাজ চলছে। এমনকি সরকারি সহায়তা পাওয়ার চেষ্টাও চলছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্যাম্প

মূলত ভাসমান শিশুরা যেন অন্তত পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ এবং মনোভাবটুকু ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে পারে সেভাবেই তাদের গ্রুমিং করা হয়। বিদ্যাসভা শুধু একটি স্কুল না। এটি এক বিরাট সভা, যেখানে কথা হয় নানা বিষয়ে।

একঝাঁক তরুণ-তরুণীর মেধা ও পরিশ্রমে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিদ্যাসভা। পথটা কঠিন। তবে রাষ্ট্রীয় মনোযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে শুরুটা বিদ্যাসভা করেছে তা যেন ভাসমান শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে গড়া প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন