মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মশা নিধনে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১০

বাস, বাসা, অফিস, স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি— কোথায় নেই মশা? দিনরাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষ। কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট, স্প্রে দিয়েও কোনোভাবে মশার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সাধারণত বর্ষার সময় এবং বর্ষার শেষ থেকে দেশে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পায়। মশার উপদ্রবে কোনো কাজই শান্তিমতো করা যায় না। সারা দিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পর তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। অনেকেই মশার কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ছাত্রছাত্রীরা ভালোভাবে পড়াশোনাও করতে পারছে না মশার অত্যাচারে। মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করা হয় তাতে সাময়িক কাজ হলেও একটু পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাছাড়া কয়েলের ধোঁয়া মানুষের শরীরের ক্ষতি করে। বিশেষ করে, শিশুদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, তারা কয়েলের ধোঁয়া সহ্যই করতে পারে না।

নোংরা ও অপরিষ্কার জায়গা, নোংরা পানি, ঝোপঝাড় থেকেই মশা জন্ম নেয়। বর্ষাকালের পর গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আনাচকানাচে বিভিন্ন পাত্রে পানি থেকে যায় এবং ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়। গ্রামাঞ্চলের মশা বৃদ্ধির জন্য এই কারণগুলো বেশি দায়ী। এছাড়া বিভিন্ন ডোবা, নালায় পানি জমে পচে সেখানে প্রচুর পরিমাণে মশার জন্ম হয়। শহরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পয়োনিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকা, ড্রেন এবং খাল দখল থাকার কারণে ময়লা-আবর্জনা এক জায়গায় আবদ্ধ থাকে। এসব জায়গায় মশা সৃষ্টি হয় প্রচুর পরিমাণে। এছাড়াও বাসার ছাদে, ফুলের টবে পানি জমে থাকা, বাড়ির আশপাশে ময়লা জমে থাকাও মশার উপদ্রব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনেক সময় নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে থাকে এবং এই পানিতে প্রচুর পরিমাণে এডিস মশা জন্ম নেয়। 

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের টিকা এখনো সহজলভ্য নয়। তাই এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। অন্য দিকে মশার আবাসস্থল বংশবিস্তার উপযোগী বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার-পরিছন্নতা রেখে ডেঙ্গু মশার জন্ম বন্ধ রাখা যায়। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় সাবধানে থাকা জরুরি। সারা শরীর ঢেকে রাখে, এমন পোশাক পরা উচিত। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে না থেকে নগরবাসীর উচিত নিজেদের বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, ভবনের চৌবাচ্চা ইত্যাদি যেসব স্থানে মশা প্রজনন করতে পারে সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। দখলকৃত খালগুলোকে দখলমুক্ত করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক হলে ময়লা-আবর্জনা এক জায়গায় আবদ্ধ থাকবে না। ফলে মশাও সৃষ্টি হবে না। শহরের ড্রেনে পলিথিন ও প্লাস্টিক-জাতীয় জিনিস ফেলা যাবে না। এসব পলিথিন ও প্লাস্টিক-জাতীয় জিনিস ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়। শহরের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে যেন পানি জমতে না পারে সে ব্যাপারে ভবন-মালিকদের খেয়াল রাখতে হবে। বাসাবাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না, ছাদ ও ফুলের টব নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলেই মশা সৃষ্টি কম হবে এবং দুর্ভোগ কমে আসবে। 

সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতাই পারে মশা ও ডেঙ্গু থেকে রক্ষা করতে। মশা নিধনে সংশ্লিষ্টদের অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন