দায় চাপানোর সংস্কৃতি পরিহার্য

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২২, ০০:১৫

ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। বিগত সময়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরিষ্কারভাবে বলা যায়, ভয়াবহতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি ব্যক্তিসচেতনতা না থাকা বা নিজ দায়িত্বকে অবহেলা করা। দৈনিক ইত্তেফাকের ১০ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ১৯৩ জন। এতে মৃত্যুর সারিও বেশ লম্বা। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, ব্যক্তিগত সচেতনতা না থাকার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে হুহু করে। 

ঢাকা শহরের বস্তি এলাকাগুলো কিংবা নর্দমাগুলো ডেঙ্গুর হটস্পট। সিটি করপোরেশন এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে যদিও, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা চাইলেই আমাদের নিজেদের আঙিনাকে পরিষ্কার রাখতে পারি। এটা আহামরি কোনো কঠিন কাজ নয়, বরং এটা নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য ভালো। নিজেদের ছোট ছোট আঙিনাকে পরিষ্কার রাখলে দেশের বড় একটি অংশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব। অথচ কাদা ছোড়াছুড়ির মতো জনগণ প্রশাসনের ঘাড়ে, প্রশাসন জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে আসছে। এতে লাভের লাভ কোনো পক্ষেরই হচ্ছে না; বাড়ছে সংকট এবং নানামুখী সমস্যা। এভাবে একে অন্যের কাঁধে দায় চাপানোর সংস্কৃতি দেশের প্রতিটি সেক্টরে দৃশ্যমান।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের একটি অংশ নিজেদের সৃষ্টি করা সংকট বা সমস্যার দায় চোখ বন্ধ করে চাপিয়ে দেয় রাষ্ট্রের ওপর। এই চাপিয়ে দেওয়া স্বভাবের আদৌ কোনো পরিবর্তন আমাদের হবে কি না বলা কঠিন। এই দলের অন্তর্ভুক্ত মানুষেরা নিজ দায়িত্ব অবহেলার নেতিবাচক প্রভাবের জন্য অন্যের ওপরে দায় চাপিয়ে এক প্রকার আনন্দ অনুভব করে থাকে। ভুলে গেলে চলবে না, এই দায় এড়িয়ে চলা নৈতিকতা বিরোধী এবং অন্যায়। অনেকটা নিজের সঙ্গেই নিজের বিশ্বাসঘাতকতা করার মতো। নিজ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই গোত্রের মানুষ কোনো সমস্যাকে সমাধান করার কথা তো মাথাতে আনেই না, বরং নিজেকে ভালো রাখার একশত একটি উপায় বের করতে পারলেই তারা নিজেকে সুখী বলে দাবি করতে পারে। 

পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের খবর বলছে, পৃথিবীর অবস্থা ভালো নেই। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সামনের বছরে হিসাব-নিকাশ করে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীতে তেল এবং গ্যাস সংকটে পৃথিবীর অবস্থা ঠিক কোন দিকে যাবে, তা বলা নিতান্তই মুশকিল। এমন অবস্থায় একে অন্যকে দোষারোপ করা চরম বোকামি তো বটেই, নিজেদের জন্যও ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য দায়ী হবে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক—সচারাচর দেখা যায়, আমরা একটি প্ল্যাস্টিকের বোতলকে ডাস্টবিনে বা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে হুট করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে নিজের দায়িত্ববোধকে এড়িয়ে যাচ্ছি। যেখানে-সেখানে ফেলা এই প্ল্যাস্টিকের বোতল বৃষ্টির পানিতে বা যেভাবেই হোক চলে যাচ্ছে ড্রেনে। অথবা রাস্তার পাশেই পড়ে আছে। ফলে বৃষ্টি হলে সেই পানি জমে যাচ্ছে রাস্তায়। অথবা প্ল্যাস্টিকের বর্জ্যগুলো ড্রেনে জমে থাকার ফলে বৃষ্টির পানির পয়োনিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে যখন আমাদেরই চলাচল অসুবিধা হচ্ছে, তখন আমরাই সরকার কিংবা রাষ্ট্রকে দোষারোপ করছি ও নির্দ্বিধায় গালি দিচ্ছি। অর্থাৎ যে সংকট তৈরি করার জন্য নিজ দায়িত্বের প্রতি অবহেলাই দায়ী, সে সংকটকে সমাধান করতে আমরা দায়িত্ব নিতে তো শিখছিই না বরং দায় এড়ানোর চেষ্টা করছি। এমন দায় চাপানোর সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি ।

লেখক : শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন