সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রাণনাশের হুমকি পেলেন রাহুল গান্ধী

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৪

'ভারত জোরো' আন্দোলন মধ্যপ্রদেশে প্রবেশ করলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উপর বোমা হামলা হবে। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের জুনি থানার অন্তর্গত এক মিষ্টির দোকানের সামনে কেউ এমন হুমকি দেওয়া একটি চিঠি ফেলে গেছে। পুলিশ চিঠিটি উদ্ধার করেছে। তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ এই অঞ্চলের সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে। ভারত জোড়ো যাত্রা এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে। ২০ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশে প্রবেশ করবে। ২১ ও ২২ নভেম্বর যাত্রার বিরতি। সেই সময় রাহুল গুজরাটে যাবেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে।

সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর রাহুলসহ সমস্ত যাত্রীদের ইন্দোরের খালসা স্টেডিয়ামে রাত কাটানোর কথা রয়েছে। তার আগে এই হুমকি দেওয়া চিঠি পাওয়া গেল। তবে চিঠির পূর্ণাঙ্গ লেখা জানা যায়নি। 

২৪ নভেম্বর রাহুলসহ সমস্ত যাত্রীদের ইন্দোরের খালসা স্টেডিয়ামে রাত কাটানোর কথা রয়েছে

তবে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেউ ধরা পড়লে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকারকে নিয়ে মন্তব্য করার কয়েকদিন পর রাহুলের মৃত্যুর হুমকি চিঠি পাওয়া গেছে। 

মহারাষ্ট্রে যাত্রা চলাকালীন বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাহুল জানান, সাভারকর ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে মুচলেকা দিয়ে চিঠি লিখে বলেছিলেন, তিনি ইংরেজদের পরম অনুগত থাকবেন। রাহুল দাবি করেন, সাভারকর শুধু ব্রিটিশদের সহানুভূতিই চাননি, অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

মহারাষ্ট্রে যাত্রা চলাকালীন রাহুল

রাহুল তার এই মন্তব্যের সমর্থনে সংবাদ সম্মেলনে সাভারকরের লেখা এক চিঠির প্রতিলিপিও দেখান।তার এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস শিবসেনা এনসিপি জোট রয়েছে। 

শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে রাহুলের এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি জানান, সাভারকরের মতো মানুষকে নিয়ে বিতর্কে না জড়ানোই শ্রেয়। মহারাষ্ট্রের মানুষ এটা মেনে নেবে না। 

শিবসেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে

যদিও তারপরও রাহুল জানান, তিনি তার মন্তব্য থেকে সরছেন না। আদর্শগত কারণে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সাভারকর বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেই এই ধরনের হুমকিমূলক চিঠি পাওয়া যায়। রাহুলের মন্তব্যের সঙ্গে এর কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, পুলিশ তা তদন্ত করছে।
 
মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র (নাতি) লেখক তুষার গান্ধী শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলার শেগাঁও থেকে শুরু হওয়া যাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন। রাহুল ও তুষার দুইজনে হাত ধরাধরি করে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটেন। 

রাহুল ও তুষার দুইজনে হাত ধরাধরি করে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটেন

কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ছবি দিয়ে এক বিবৃতিতে জানায়, দুই প্রপৌত্রের যাত্রা শাসকের কাছে বার্তা দিচ্ছে যে তারা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। কিন্তু তারা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেবেন না।

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অরাজনৈতিক মানুষ ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) যোগ দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেনের নাতনি অভিনেত্রী রিয়া সেন। একই দিনে ৯৩ বছর বয়সী লীলাবাই চিতালে, যিনি ১৯৪২ সালে গান্ধীজির আহ্বানে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি যাত্রায় যোগ দেন। 

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অরাজনৈতিক মানুষ ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দিচ্ছেন

কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ সেই ছবি দিয়ে টুইটারে লেখেন, 'লীলাবাঈ চান, এই যাত্রা সংবিধান রক্ষা করুক।'

 

ইত্তেফাক/ডিএস