মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিচ্ছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৪৭

দেড় যুগ পর ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের আওতায় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাইকোলজিস্ট নিয়োগের এক বছরের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের আওতায় ‘মানসিক স্বাস্থ্য সেবা’ বিভাগের আওতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন করেছে এই বিভাগটি।

তবে ছাত্র পরামর্শ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের আওতায় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাইকোলজিস্ট একজন, কক্ষ সংকট, অফিস সহায়ক না থাকায় প্রতিনিয়ত সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মানসিক সংকটে ভুগছেন। যাদের বেশিরভাগেরেই অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট ফল, পারিবারিক কলহ, প্রেম ঘটিত সম্পর্কের মত সমস্যা।

মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ভোগা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতেই জাতীয় কবি কাজী  নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সেবা দেওয়া শুরু করে। শুরুর দিকে এখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকোচ কাটিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

সুবিধাভোগী একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের আন্তরিকতা, স্বচ্ছন্দ সেবাদান পদ্ধতির কারণেই তারা দ্বিধা কাটিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠীদের মধ্যে যারা মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তারা এই সেবার মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকে এককভাবে সেবা নিয়েছেন ২১১ জন শিক্ষার্থী এছাড়াও দলগত কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে অনেকেই সেবা দেওয়া হয়েছে। সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় নব্বই শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেওয়ার পর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাইকোলজিস্ট আদিবা আক্তার জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কাছ শিক্ষার্থীরা যে সমস্যাগুলোর জন্য এসেছে তার মধ্যে হতাশা, পারিবারিক কলহ, পরিবেশের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, ধর্মীয় সমস্যা, অতিরিক্ত চিন্তা, ক্যারিয়ার, যৌন হয়রানি, মুড সুইং, আত্মবিশ্বাসের অভাব, মৌলিক চাহিদার অপূর্ণতা, মানসিক চাপ, প্যানিক ডিজঅর্ডার, ফোবিয়া ডিজঅর্ডার, প্রেমঘটিত সম্পর্ক, শারীরিক সমস্যা, হতাশা, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি, আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা শোনার পর তাদের রোগের ধরন অনুসারে কাউন্সিলিং করে থাকি।  প্রতিটি ব্যক্তিগত সেশনে সর্বনিম্ন ৪৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে গ্রুপ সেশন নেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক ড. তপন কুমার বলেন, আমরা শুরুর দিকে যখন এই সেবা দেওয়া শুরু করি অনেকের মধ্যে অনীহা ছিল। তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত না। কিন্তু এখন এ সেবা নেওয়ার চাহিদা বহুলাংশে বেড়েছে। কিন্তু তার সাথে পাল্লা দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে জনশক্তি বাড়াতে না পারায় বর্তমান চাপ বাড়ছে বর্তমানে কর্তব্যরতদের ওপর। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/এআই