এলিটের ছোঁয়ায় মিরসরাইয়ে বদলের হাওয়া

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৩, ২০:৫৮

গত বছর এপ্রিল মাসের ঘটনা। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে হঠাৎ রাতের বেলায় বীভৎস আগুনে পুড়ে যায় চারটি পরিবারের সহায় সম্বল। অসহায় মানুষগুলোর সামনেই সব শেষ হয়ে গেলো। চোখের পানি ফেলতে থাকা এই মানুষগুলো তখন ভাবতে পারছিলো না, কে তাদের পাশে দাঁড়াবে। 

ঠিক এই সময় ঢাকা থেকে খবর পেয়ে ইছাখালী ছুটে গেলেন তিনি। দাঁড়ালেন এই চারটি পরিবারের পাশে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারের মানুষের হাতে তুলে দিলেন সহায়তার অর্থ। 

পুড়ে যাওয়া নুর বেগমের মেয়ে শেফালী আক্তার চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘আমরা অসহায় পরিবারের মানুষ। বাবার স্বল্প আয়ে কোনো রকম চলে আমাদের জীবন। কিন্তু আগুনে পুড়ে আমরা নিঃশেষ হয়ে গেছি। এমন সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলিট ভাই। উনিই আমাদের ভরসা।’

এটাই প্রথম বা শেষ ঘটনা নয়। এই তো চলতি বছরেই আবার আগুনে পুড়ে গেলো মিরসরাইয়ের ১৭টি পরিবারের ঘর। সেবারও তাদের পাশে গৃহনির্মাণের সহায়তা নিয়ে দাঁড়ালেন সেই নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। লোকেরাও আবারও বললো, এলিট ভাই-ই আমাদের ভরসা। 

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

হ্যাঁ, এটাই নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের পরিচয়; তিনি মিরসরাইয়ের মানুষের ভরসা। এলিট বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তিনি মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের নির্বাহী পরিচালক, তিনি জেসিআই বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম ও ঢাকার ডাকসাইটে ক্রীড়া সংগঠক, নামকরা ব্যবসায়ী, বাসমালিক সমিতির নেতা। কিন্তু এসব কোনো পরিচয়ই তাকে ঠিক চেনাতে পারে না। তার প্রধান পরিচয় তিনি মিরসরাইয়ে বদলের হাওয়া আনা মানুষ। এই এলাকার হাজার হাজার অসহায় মানুষের সহায়। 

নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে পথ চলেছেন। সেই ছাত্র থাকা অবস্থাতেই রাজনীতি ও সংগঠন করার পথ বেছে নিয়েছেন। একদিকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন এবং অন্য দিকে নানারকম খেলাধুলার সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়েছেন। সবচেয়ে বেশি যেটা করেছেন, সেটা হলো মানুষের পাশে থাকা। 

তরুণ এলিট একদিকে পড়াশোনায় উজ্জ্বল থেকেছেন, আরেকদিকে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। কখনো জেসিআইয়ের ব্যানারে, কখনো যুবলীগের ব্যানারে ছুটে বেড়িয়েছেন মানুষের ভেতরে। কিন্তু দিনশেষে নিজের ঠিকানা বলে ওই মিরসরাইকেই সবার আগে রেখেছেন। 

উদাহরণ দিতে গেলে বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঝর্ণা রানীর কথা। এই সম্ভাবনাময় মেয়েটি মারা গেলে তার পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন এলিট, নিয়েছেন তার ভাই-বোনের পড়ালেখার দায়িত্ব। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এমন মিরসরাইবাসীর পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা এলিটের জন্য নতুন কিছু নয়। এমনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিএনজি চালকের পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। 

আরও বলা যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৯ নম্বর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীন মোহাম্মদের কথা। এই ত্যাগী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা যখন হৃদরোগে ভুগছিলেন, রিং পরানোর দায়িত্ব এলিটই নিয়েছিলেন। 

আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর ত্যাগী, প্রবীণ নেতাদের জন্য এলিটের শ্রদ্ধার শেষ নেই। বারবার তিনি এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা নব্বই দশকের ডাকসু নেতা মোতাহার হোসেনের ঘর নির্মাণ ও তার সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে অনুদান দিয়েছেন তিনি। দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এই তরুণ রাজনীতিবিদ।  

করোনার সময়ে অজস্র পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আগুনসন্ত্রাসের শিকার পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। 

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

শত শত শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করেছেন এলিট। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মিরসরাইয়ের মানুষদের জন্য এলিট ছুটে যান সবার আগে। ২০২২ সালে সীতাকুণ্ড কেমিক্যাল অগ্নিকাণ্ডে নিহত শাহাদাতের পরিবারকে অনুদান দিয়েছেন। আবার ২০১৭ সালে গাজীপুরের বয়লার বিস্ফোরণে মিরসরাইয়ের যে ১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো, তাদেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন এলিট।
ধর্মের প্রতি রয়েছে এই মানুষটার দারুণ অনুরাগ। শতাধিক মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার ভবন নির্মাণে অনুদান প্রদান করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশে থাকেন সবসময় তাদের আনন্দ বেদনায়। 

এই মিরসরাই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এলিট। এ ছাড়া তাদের মধ্যে নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। 

দারুণ সংগঠনমুখী এলিট মীরসরাই উপজেলায় ১২৫টি সামাজিক সংগঠনকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান প্রদান করে থাকেন। প্রতি শীতে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার প্রায় লক্ষাধিক লোককে শীতবস্ত্র বিতরণ করাটা তার নিয়মিত কাজ। প্রায় ৪৫ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন প্রতি বছর। 

এলিটের এই যে মানুষের প্রতি টান, মানুষের পাশে থাকা এর পেছনে প্রধান অনুপ্রেরণা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে বড় হওয়া এলিট সেই শৈশব থেকে আওয়ামী লীগের প্রতি একান্ত নিবেদিত মানুষ।

এলিট ধীরে ধীরে এই মিরসরাইকে বদলে ফেলার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘গ্রাম হবে শহর’ এটাকে বাস্তব করার এখনই সময়। আর সে জন্যই নিজের গ্রাম ও এলাকা থেকে বিপ্লবটা শুরু করতে চান এই তরুণ রাজনীতিবিদ।

ইত্তেফাক/এএএম