বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) দেশের একমাত্র ইসলামী রাজনৈতিক দল। দলটি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ পরিচিত। সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনায় এবার সরাসরি অংশ নেই বিটিএফ এর-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ডানপন্থী ইসলামপন্থী দলগুলো সারা দেশে কর্মসূচি ও সেমিনারের আয়োজন শুরু করে। সেখানে তারা জিহাদ আন্দোলনের আহ্বান জানায়।
তবে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার দলটি এখন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিটিএফ-কে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা হুট করেই পরিবর্তন করেছে। এটিকে মৌলবাদী সংগঠনগুলো তাদের বিজয় হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে। এসব আয়োজনে ফিলিস্তিনি ইস্যুকে তারা প্রধান কারণ হিসেবে দেখালেও পর্দার আড়ালে বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল এতে একত্রিত হচ্ছে। তারা মনে করছে, বিটিএফ তাদের জন্য আর চ্যালেঞ্জ হবে না কারণ-বিটিএফ নিজেরাই সমস্যার মুখোমুখি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে তরীকতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। তবে এবার সমঝোতায় কোনো আসন পায়নি দলটি। আসন না পেয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে লড়ছে তরীকত ফেডারেশন। ‘ফুলের মালা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে দলটি।
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। দলটির মনোনীত প্রার্থীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
এবারের জাতীয় নির্বাচনে ১২৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। বর্তমান জাতীয় সংসদে দলটির একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী চট্টগ্রাম-২ আসনের (ফটিকছড়ি) সংসদ সদস্য। তিনি এই আসন থেকে দশম জাতীয় সংসদেরও সদস্য ছিলেন। আগামী নির্বাচনেও একই আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
