গোপালপুর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা আনসার-ভিডিপি সদস্যরা প্রায় দেড় বছরেও তাদের বকেয়া ভাতা পাননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলার নগদাশিমলা, ঝাওয়াইল ও হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। নির্বাচনে অস্ত্রধারী ও অস্ত্রবিহীন ৬৪৬ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। মান্দিয়া গ্রামের অস্ত্রধারী আনসার আলামিন মিয়া জানান, নির্বাচনে আনসার সদস্যদের টানা তিন দিন ডিউটি করতে হয়। এ জন্য অস্ত্রধারী আনসারের ২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং অস্ত্রবিহীন আনসারের ২ হাজার ১৯০ টাকা করে ভাতা পাওয়ার কথা। অথচ দায়িত্ব পালন শেষে সেই বকেয়া ভাতার টাকা পেতে দেড় বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গত রবিবার গোপালপুর আনসার ও ভিডিপি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক জন আনসার সদস্য অফিসের সামনে জটলা পাকিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ, বকেয়ার জন্য অফিসে ঘুরে তারা পেরেশান হয়ে গেছেন। আনসার সদস্য তরিকুল জানান, নির্বাচনি কাজে হাড়ভাঙা খাটুনির বকেয়া ভাতা কবে জুটবে অফিস তা সুনির্দিষ্ট করে বলছে না। পোলিং, প্রিজাইডিং, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীরা যথাসময়ে ভাতা পেলেও বঞ্চিত রয়েছেন শুধু তাদের মতো গরিব আনসাররা।
এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার ইয়াকুব আলী জানান, ভাতার দাবিতে প্রায়ই তারা অফিসে আসেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ না দেওয়ায় বকেয়া ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসার মতিউর রহমান জানান, একমাত্র আনসার ভিডিপি সদস্য ছাড়া সবার ভাতা দেয় জেলা নির্বাচন অফিস। আনসার সদস্যরা ভাতা পান বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। তাই জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অফিস এটার ভালো উত্তর দিতে পারবে।
টাঙ্গাইল জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইব্রাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সদর দপ্তরের মাধ্যমে বকেয়া ভাতার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুতই বকেয়া ভাতার টাকা মিলবে।

