শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আমবাগানের বেচাকেনা নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ০৫:০০

প্রথা হিসেবে বছরে দুই বার আম গাছ বিক্রি হয়। একবার গাছে আম ধরার পর। অন্যবার পাতাতে। কিন্তু এবার তার কোনটিই হচ্ছে না আমের রাজধানী নামে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এতে বিপাকে পড়েছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাগানে গুটি কম থাকা ও সামনে ঝড়-বৃষ্টিতে আম ঝরে যাওয়ার শঙ্কা থাকায় ব্যবসায়ীরা আমবাগান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

কৃষি-সংশ্লিষ্ট ও আমচাষিরা বলছেন, চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে আম চাষে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে মুকুল দেরিতে ও কম আসা, অসময়ের বৃষ্টিতে ফুটন্ত মুকুল ঝরে যাওয়ার পর দাবদাহেও আমের গুটি ঝরে পড়েছে। ফলে আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ হবে না। এর মধ্যে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি হলে বাগানে যে আম আছে সেগুলো টিকানোও দুষ্কর হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় বাগানের ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। 

সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় আমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গত ২৫ বছর ধরে আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি আরিফুল ইসলাম (৫০)। তিনি জানান, মৌসুমে গাছে আম ধরিয়ে অগ্রিম বাগান বিক্রি করেন অন্য ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু এবার ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বাগান বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাগানে আশানুরূপ আমের গুটি আসেনি। এছাড়া সামনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তখন আমের আরো ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় গুটি রক্ষার্থে বেড়েছে কীটনাশক-বালাইনাশক খরচ। বেড়েছে শ্রমিক খরচও। এখন বাগান বিক্রি না হলে পথে বসতে হবে।

পুকুরিয়া এলাকার আমচাষি সুজা মিয়া বলেন, আমার খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাত বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। প্রতি বছর আম ফলিয়ে গাছেই বিক্রি করি। কিন্তু এবার বাগানে পর্যাপ্ত আম নেই। এতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও পাচ্ছি না ক্রেতা।

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, চলতি মৌসুমে বাগানে মুকুল কম এসেছিল। তারপর বৃষ্টিতে ফুটন্ত মুকুল ঝরে যায়। এতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলায় এবার ৭০ শতাংশ গাছেই আম নেই। এজন্য ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কৃষিক্ষেত্রে অনেক প্রণোদনা দিলেও আমচাষিদের এখনো কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। প্রণোদনা না পেলে আম ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পলাশ সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সামনে আরো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছে। কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এমনটা হলে আমের উত্পাদন কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, এবার আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আমচাষিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা কয়েক বছর থেকেই দেখছি, আগের বড় গাছগুলোতে আম না হলেও নাবি জাতের ছোট গাছগুলোতে আম আসছে। তাই চাষিদের পুরোনো জাতগুলো পরিবর্তন করে নতুন জাতে রূপান্তরিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি