দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে না পারলে আপনি থাকবেন না— ওসিকে চিফ হুইপ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৩

আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন আপনি থাকবেন না বলে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, আগামী দুই মাস টাইম দুই মাস। কিশোর গ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনো কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।  

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, চাঁদাবাজি করে খাওয়ার কোনো সুযোগ পাথরঘাটায় নেই।  ওসি সাহেব আপনাকে আমি এখানে বললাম চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনো সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না। 

এ সময় ওসিকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে আউয়াল নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গায় কী করার কথা বলে চাঁদা নিয়েছেন। আউয়ালসহ আরও একজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাবেন। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নাই, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নাই। 

সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে চিফ হুইপ বলেন, আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি। কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেপ্তার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছেন, থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।  

সমুদ্রে মাছ শিকারে ট্রলিং ট্রলারের বিষয়ে কোস্ট গার্ডসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাত ১২টার পরে যখন ম্যাজিস্ট্রেট চলে যায় তখন ট্রলিং শুরু হয়। এবং তখন বরফ কল চালু হয়। বাংলাদেশের অন্য যে কোনো জায়গায় ট্রলিং হলেও পাথরঘাটায় হবে না। এ ছাড়া পাথরঘাটায় যারা এখনো ট্রলিং করেন, তাদেরকে ট্রলিং না করারও অনুরোধ করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনযাপন করেন। কীভাবে পাথরঘাটা চরের একজন জেলে একজন কৃষক কোন বিপদে আছে এবং সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করার রাস্তা কী? তাকে স্বাবলম্বী করার রাস্তা কী? যার মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারে না তার মেয়েটাকে বিয়ে দেওয়ার উপায় কী? যে মেয়েটা দক্ষ এবং যে ছেলেটা এমএ পাস করে চৌকিদারের চাকরি চায় তাদের কাজে লাগানোর রাস্তা কী? এটা ভাবেন তারেক সাহেব। সেই ভাবনা থেকেই প্রথম কেবিনেট বৈঠকে প্রথম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সারা বাংলাদেশের কৃষকদের ১০ হাজার টাকার সুদসহ ঋণ মওকুফ।  

 
ইত্তেফাক/এমএসআর