ঢাকা শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


পোশাক শিল্প :অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ

সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অভিমত বিভিন্ন পর্যায়ে বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ, কমছে মাছ ও চাষের জমি
পোশাক শিল্প :অর্থনীতিতে অবদান  রাখলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ

দেশে গার্মেন্টস শিল্পের ক্রমাগত বিকাশ অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও তা পরিবেশের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। শিল্পের ক্রমাগত বিকাশের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। গতকাল শনিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। তারা বলেন, পরিবেশের উপর গার্মেন্টস শিল্পখাতের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প-কারখানার পানি, জ্বালানি ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ‘ভয়েসেস অ্যান্ড সল্যুশন্স :এচিভিং গ্রোথ থ্রো সাসটেইনেবল প্রোডাকশন এন্ড কনসাম্পশন ইন দ্য ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে যৌথভাবে একশনএইড ও ফ্যাশন রেভোল্যুশন।

সেমিনারে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির পোশাক খাত কিভাবে পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে, তার উপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাতে বলা হয়, ফ্যাশন বিশ্বব্যাপী ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী খাত। একইসঙ্গে এটি সারা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পানি ব্যবহারকারী খাত। অপরদিকে, শুধু এই একটি খাত থেকেই বিশ্বের ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি এবং ১০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়। শিল্প-কারখানায় কাটা, সেলাই প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তৈরি পোশাক উত্পাদন বায়ু, পানি এবং মাটি দূষণ করে থাকে। বেশিরভাগ কারখানা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় তাদের বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের এক গবেষণা মতে, প্রতিবছর পোশাক শিল্প কারখানায় ওয়াশিং এবং ডায়িংয়ের কাজে ১৫শ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানাগুলো ব্যবহারের পর এই বিষাক্ত পানি নদী এবং খালে নিষ্কাশন করে। ফলে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

ফারাহ্ কবির বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাত অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও পরিবেশের জন্য এটি উদ্বেগজনক। পানি দূষণের ফলে কমছে মাছের সংখ্যা, চাষের উপযোগী জমি। বেশিরভাগ স্থানীয় কৃষক ও মত্স্যজীবীদের জীবিকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প-কারখানা হতে নিষ্কাশিত বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। জলাশয়কে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। নিজেদের দায়িত্ব না এড়িয়ে মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।

সেমিনারের ধারণাপত্রে বলা হয়, ঢাকার পানি সরবরাহের প্রায় ৮২ শতাংশই ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। পানির এই বিশাল চাহিদা পূরণের জন্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ২-৩ মিটার পরিমাণে হ্রাস পাচ্ছে। যদি পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তবে ২০৫০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কমে গিয়ে ১১০ থেকে ১১৫ মিটারে নেমে যাবে। এছাড়া পোশাক শিল্পের বর্জ্য হতে নির্গত মিথেন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। পোশাক প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহূত রাসায়নিক রঙ মাটির সঙ্গে মিশে ভূপৃষ্ঠ এবং ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কিউটেক্স সল্যুশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহুরা খানম বিজিএমইএ’র সদ্য নির্বাচিত পরিচালক ও অনন্ত গ্রুপের প্রধান শরীফ জহির বলেন, ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, ফ্যাশন রেভোল্যুশন এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর নওশীন খায়ের, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন