বাগানগুলো পাকা আমের ঘ্রাণে ভরপুর হলেও রাজশাহীর হাট-বাজারগুলোতে এখনও জমে ওঠেনি আমের বেচাকেনা। একই অবস্থা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের পাইকারি বাজার রাজশাহীর বানেশ্বরের। আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেরিতে আমের মুকুল এসেছে। বিষয়টি বিবেচনা ছাড়াই আমপাড়ার দিন চূড়ান্ত করায় দুই সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও আমের বাজার জমেনি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৫ জুন থেকে পুরোদমে জমে উঠবে রাজশাহীর আমের বাজারগুলো।
এদিকে ৫ জুন বিশেষ পার্সেল ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে আম ঢাকায় পাঠাতে শুরু করবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ওইদিন বিশেষ পার্সেল ট্রেন উদ্বোধন করা হবে। আগামীকাল শনিবার রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভায় পার্সেল ট্রেনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। উক্ত বাগান থেকে দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের টার্গেট ধরা হয়েছে । অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে এবারও আমপাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বিলম্বে আগের গুটি আসার কারণে ২০ মে পরিবর্তে আগামী ৫ জুন গোপালভোগ আমপাড়ার সময় তারা নিজেরাই নির্ধারণ করেছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে লখনা, রাণীপছন্দ, হিমসাগর বা খিরসাপাত, ল্যাংড়া, আ¤্রপালি, ফজলি, আশ্বিনা ও বারী আম বাজারে আসবে।
আরও পড়ুন: নতুন জামার প্রলোভনে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসন ১৫ মে গুটিআম, ২০ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন, ফজলি ১৫ জুন এবং ১০ জুলাই আশ্বিনা ও বারী-৪ জাতের আামপাড়ার সময় নির্ধারণ করেছে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবার অনুকূল আবহাওয়ায় বেশির ভাগ গাছে আম ধরেছে। শুরু থেকে সঠিক পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ কম হওয়ায় এবার রেকর্ড আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। যদিও গত ২০ মে ঘুর্ণিঝড় আম্ফান এবং ২৫ মে’র কালবৈশাখি ঝড়ে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। এতে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বানেশ্বর হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকার গুটি আম সীমিত পরিসরে কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতিমণ গুটি আম প্রকার ভেদে সাতশ টাকা থেকে বারোশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর যৎসামান্য গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে তেরশ থেকে এক ষোলশ টাকা মণ দামে। তবে বাজার জমেনি বলে রাণীপছন্দ, লক্ষণভোগ, খিরসাপাত আমপাড়া শুরু করেননি চাষীরা। আমপাড়ার মৌসুম সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকার অস্থায়ী আড়ত প্রস্তুত হচ্ছে।
বানেশ্বরের আড়তদার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট, নাটোর ও বাগাতিপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাগান মালিকরা আম বিক্রি করতে আসেন বানেশ্বরে। ইতিমধ্যে অনেক চাষীরা দাম দেখতে সীমিত পরিসরে আম নিয়ে আসছেন। তাই এখনো আমের বাজার জমেনি।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, আমপাড়া ও কেনাবেচা প্রশাসন সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি

