ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় ১৫ দিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ

ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় ১৫ দিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ
ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় ১৫ দিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। ফাইল ছবি

পেয়াজ আমদানিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় টানা ১৫ দিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি পার্কিং আর সড়কে প্রায় শতাধিক পেঁয়াজ বোঝায় ট্রাক এখনও দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির শিকার হবেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাংলাদেশী আমদানিকারকেরা তাদের ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুরানো এলসির আটকে পড়া পেঁয়াজ ছাড় করনের বার বার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি। ফলে দেশে পেঁয়াজ আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় বাজারে পেয়াজ সংকট দেখা দেওয়ায় দাম আবারও বেড়ে চলেছে। আজ সকালে পাইকারী বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর খুচরা বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে দাবী ব্যবসায়ীদের।

পেঁয়াজ আমদানিকারক মা বানিজ্যলয়ের কিরণ মিত্র বলেন, প্রতিবছর পেঁয়াজ নিয়ে লংঙ্কা কাণ্ড হয়। ভারত কখনো উৎপাদন সংকট আবার কখনো রপ্তানি মূল্য তিন গুন বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে তারা। এক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলায় ভারত ছাড়াও বাইরের কিছু দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এপথে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুনঃ কিশোরগঞ্জে পানিবন্দি প্রায় দশ হাজার পরিবার

পেঁয়াজ আমদানি কারক রফিকুল ইসলাম রয়েল, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে হেফাজতে তাদের প্রায় শতাধিক গাড়ি পেঁয়াজ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেয়াজে পচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছেছিল। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারো নতুন করে তারা লোকসানে পড়বেন।

বেনাপোল বন্দরের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা শুকর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম। আর যা আসছে তা অর্ধেক বস্তায় পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এক রকম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে মনে হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সংকট দেখিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এপর্যন্ত কোন পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দিবে কিনা তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি।

তবে এপথে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক আছে।

উল্লেখ্য গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে কয়েক হাজার ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। তবে এসব পণ্যের মধ্যে কোন পেঁয়াজের ট্রাক ছিলনা। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি হয়েছে অনুরূপভাবে। তবে এসব রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ ট্রাক ছিল পদ্মার ইলিশ।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত