মির্জাপুরে করোনা ও বন্যায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবারের মানবেতর জীবন 

মির্জাপুরে করোনা ও বন্যায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবারের মানবেতর জীবন 
মির্জাপুরে করোনা ও বন্যায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবারের মানবেতর জীবন।ছবি: ইত্তেফাক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় করোনা ও বন্যায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী (আদিবাসী) পরিবার ত্রাণ না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ও ১১ নম্বর আজগানা ইউনিয়নের অবহেলিত পাহাড়ি ও নিভৃত অঞ্চলে এসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী আদিবাসীদের বাড়ি।

মির্জাপুর উপজেলা আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি সুনীল সারতী বর্মন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, মহামারি করোনা এবং বন্যার মত দুর্যোগের এই সময়ে কাজ না থাকায় এবং সরকারি দেওয়া ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে হতদরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার ১৩ নম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া, বংশীনগর, তালতলা, কাইতলা, গায়রাবেতিল, চানু মার্কেট, মোতারচালা, পুকুরপার, বটতলা এবং ১১ নম্বর আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা ও খাইটারঘাট এলাকায় প্রায় তিন হাজার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবার বসবাস করেন। এদেরকে বর্মন ও কুচ সম্প্রদায় বলা হয়। তাদের মুল পেশা মাটি কাটা, দিনমজুরী, কৃষি কাজ ও ভ্যান চালানো।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত মদপানে তিন যুবকের মৃত্যু

গায়রাবেতিল গ্রামের স্বর্নমনি বর্মন (৩৫) এবং বটতলা গ্রামের বিরেশ চন্দ্র কোচ (৫০) অভিযোগ করেন, গত ৭-৮ মাস ধরে দেশে করেনা ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকেই তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রশাসন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন এনজিও এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজসহ করেনা ভাইরাস সংক্রমণ সুরক্ষার জন্য তেমন কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছি।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিলটন বলেন, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের দিনমজুরীর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ এবং কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে মাঝে মধ্যে কিছু দরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। ফলে অসহায় পরিবারগুলো মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. যুবায়ের হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় তালিকা সংগ্রহ করে বেশ কিছু ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী আদিবাসী পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা পেলে পর্যায়ক্রমে আদিবাসী পরিবারগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ত্রাণ দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত