শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সার্কাসও গেলো হারিয়ে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৫৩

কয়েক বছর ধরে শীতের মৌসুমে বাংলাদেশের কোথাও সার্কাসের তাঁবু পড়তে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের শৈশবে দেখেছি শীত জাঁকিয়ে পড়লে কোথাও না কোথাও সার্কাসের তাঁবু পড়ত। সার্কাসের সব কর্মী ও খেলোয়াড়ের খাওয়া-পরার দায়িত্ব ছিল মালিকের ওপর। ছোট থেকে বড় কর্মীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী একেক জনের উপার্জন ছিল ৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। মাইনে ছাড়াও এঁদের ভবিষ্যতের অনেকটা দায়িত্ব ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হতো মালিককে। সার্কাসে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের পরিবারের ছেলেমেয়ে কেউ সার্কাসে আসতে চাইলে তাকেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্কাসে নেওয়া হতো।

সেসব দিন আজ অতীত। মনে আছে, আমাদের পিরোজপুর শহরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাসখানেক ধরে সার্কাস চলত। কোথায় হারিয়ে গেল সেই কমলা সার্কাস?

স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়নি। সার্কাসে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে যোগব্যায়ামের নানান খেলা দেখাত। নানা ব্যালান্সের খেলাও দেখানো হতো। ১ চাকার সাইকেল চালানো, প্লাস্টিকের রিঙে পা দিয়ে মাটি থেকে তোলা, শূন্যে সাঁতার যাকে ট্রাপিজের খেলা বলে—সেটা দেখানো হতো প্রায় অন্ধকারের মধ্যে। মনে আছে, সেই সময় শুধু একটা জোরালো নীল বাতি জ্বলত। তবে আমাদের কাছে সব থেকে আকর্ষণীয় খেলা ছিল গ্লোবের মধ্যে মোটরসাইকেল চালানো। বাবা বলতেন, এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। তিন খেলোয়াড় মোটরসাইকেলে এদিক-ওদিক পাক দিতেন। সিংহ, বাঘ, ভালুক, হাতি, উট, ঘোড়াও সার্কাসে আনা হতো।

সার্কাসের খেলোয়াড়দের জীবন ছিল প্রায় যাযাবরের মতো। তবে সার্কাসের ক্যারিসমা দেখানো সেই মুখ এখন ম্লান। ওঁদের হাসি ভরা মুখের আড়ালে থাকে বুক ভরা চাপা কান্না। যাঁরা সার্কাসে খেলা দেখান, তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দর্শকের সামনে শারীরিক কসরত, আশ্চর্য সব খেলা দেখিয়ে হাততালির তুফান তুলতেন। নিজেদের কষ্ট চেপে রেখে তাঁরা আনন্দ দিতেন দর্শকদের। এঁদের কেউ কেউ স্বামী-স্ত্রী ছিলেন সার্কাসের খেলোয়াড়। এখানেই প্রেম, বিয়ে আর সংসার সার্কাসের তাঁবুতে!

গত কয়েক বছর ধরে পুরোপুরি বদলে গেছে ওঁদের জীবনযাত্রা। শুনতে পাই, কেউ কেউ ভ্যানে করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে মাছ কিংবা সবজি বিক্রি করছেন। কেউবা চায়ের দোকান পেতে বসেছেন। দিনমজুরিও করছেন কেউ কেউ। এত কষ্টের পর তাঁরাই আবার নতুন করে ফিরতে চাইছেন সার্কাসের তাঁবুতে। কিন্তু পাচ্ছেন না সার্কাস পার্টি। এ অবস্থায়, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত হারিয়ে যাওয়া সার্কাস পার্টিগুলোকে খুঁজে বের করে সাহাঘ্য-সহযোগিতা দিয়ে দেশের সর্বত্র সার্কাসের আয়োজন করা।

লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সুন্দরবনে মৌয়ালরা নিরাপদে নাই

শিশুদের খেলাধুলার সময় দিন 

আন্তঃনগর ট্রেন, সেবা না ভোগান্তি! 

ডিজিটাল জন্ম সনদপ্রাপ্তিতে দুর্ভোগ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড 

গুলিস্তান-সদরঘাট ফ্লাইওভার জরুরি