গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিনতাই ও অপহরণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন।
বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী দৈনিক ইত্তেফাককে ছিনতাই ও অপহরণের মুখে পড়তে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন।
বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতিশ মণ্ডল বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি রাত আটটায় টিউশন করে ফেরার সময়ে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের আগে পাঁচজন কিশোর আমার পথ রোধ করে। তারা আমাকে ধরে সবকিছু নিয়ে নিতে চাইলে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করি। এসময় উদয়ন রোডে তারা আমাকে ধরে উপুর্যুপরি কিল-ঘুষি, লাথি মারতে থাকে এবং লাঠিপেটা করে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে যায়। পরে সহপাঠীরা এসে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঐ একই দিনে অপহরণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আলী শেখ। তিনি বলেন, টিউশনের কথা বলে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নয়ন নামের এক ব্যক্তি ক্যাম্পাস থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মল্লিকের মাঠে যেতে বলে। সেখানে গেলে মোটরসাইকেলে করে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজন মিলে আমাকে মারধর করে এবং বাড়িতে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা আনতে বলে। বাড়ি থেকে টাকা দিলে তারা মোবাইল নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গেলে শিক্ষার্থীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এবিষয়ে ১৮ জানুয়ারি রাতে টুঙ্গিপাড়া থানায় অভিযোগ করেছি।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল আলী শেখকে অপহরণ করার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টায় গোপালগঞ্জ সদরে ডিসি অফিসের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে এসে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে অপহরণের চেষ্টা করে দুই ব্যক্তি। এসময় নিকটস্থ রেস্টুরেন্টে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘ বন্ধ শেষে ক্যাম্পাস খোলার পরে আরও অনেক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি। যে এলাকায় অধিক শিক্ষার্থী থাকে সেখানকার জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সাথেও আমরা কথা বলেছি। ছিনতাই-অপহরণ কাম্য বিষয় নয়। যখনই এধরনের ঘটনা ঘটে তখন ভুক্তভোগী আমাদেরকে জানালে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা করব। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমরা আবারও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব।

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, থানায় জিডি