বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

করোনায় বেড়েছে ধনী-গরিবের বৈষম্য

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:১৬

করোনা মহামারি বিশ্বকে দেখিয়েছে নতুন অনেক দৃশ্য। মানুষকে অভ্যস্ত করেছে নতুন সব অভ্যাসের সঙ্গে। করোনা মানুষকে দেখিয়েছে প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা। অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে লড়াই করে চলছে বর্তমান পথচলা। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরোপ করা বিধিনিষেধে পুরো অর্থনীতি জুড়ে দেখা দেয় স্হবিরতা। চাকরি হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয় লাখ লাখ মানুষ।

এ অবস্থায়ও আয় বেড়েছে অতি ধনীদের। ফুলেফেঁপে উঠেছে তাদের সম্পদের পরিমাণ। কারো জন্য শাপে বর হয়েছে, আবার কেউ মারা যাচ্ছেন না খেয়ে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছেন আর মধ্যবিত্ত এবং গরিবরা পরিণত হচ্ছে হতদরিদ্রে।

আমরা এমন একটি বিশ্বে বসবাস করছি, যেখানে অতি ধনী অল্প কিছু মানুষের হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষমতার বড় একটি অংশ। একই সময়ে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিশ্রুতি না থাকা দেশগুলোয় বৈষম্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে সঞ্চিত সব অতিরিক্ত সম্পদের ৩৮ শতাংশের দখল নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাত্র ১ শতাংশ মানুষ। যেখানে নিচের ৫০ শতাংশ মানুষ পেয়েছে এ সম্পদের মাত্র ২ শতাংশ। মহামারি শুরুর পর থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ করোনার কারণে ৯৯ শতাংশ মানুষের আয়ের পরিস্হিতি ভয়াবহভাবে খারাপ হয়েছে। অর্থনৈতিক, লিঙ্গভিত্তিক ও জাতিগত অসমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান বৈষম্য বিশ্বকে বিভক্ত করেছে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মহামারি শুরুর পর প্রতি ২৬ ঘণ্টায় এক জন কোটিপতি তৈরি হয়েছে। যে সময়ে ১০ শীর্ষ ধনীর সম্পত্তি দ্বিগুণ হয়েছে, তখন বিশ্বে ১৬ কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। করোনায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ মারা গেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটি মাত্র সূচকে এটি সর্বোচ্চ মৃতু্য। প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ৩১০ কোটি মানুষের তুলনায় এই ১০ জনের সম্পদের পরিমাণ বেশি। এই ১০ ধনীর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ডলারে পরিবর্তন করে উল্লম্বভাবে সাজালে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের অর্ধেক অতিক্রম হবে। এ ছাড়া টিকা নিয়ে বিশ্বে বড় বৈষম্য রয়েছে। ২০২১ সালে লজ্জাজনক টিকা বৈষম্য শনাক্ত হয়েছে। ইতিহাসে এটি আমাদের জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

দূষণের দিক দিয়েও ধনীরা সবার আগে রয়েছেন। ১০০ কোটি মানুষের তুলনায় শীর্ষ ২০ ধনী গড়ে ৮ হাজার গুণ কার্বন নিঃসারণ করেন। ধনীগণ তাদের দাম্ভিকতা আর প্রাচুর্যের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারলেও অনিশ্চয়তার কাঁটাতারে ঝুলছে দরিদ্রের ভাগ্য। সম্প্রতি অক্সফামের বার্ষিক বৈষম্য প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈষম্যের কারণে গড়ে প্রতি ৪ সেকেন্ডে একজন করে লোক মারা যাচ্ছে।

ধনীদের সম্পদ কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা রোধ করতে না পারলে মানবসভ্যতা এক মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। কারণ ধনীরা অঢেল সম্পদ নিয়ে রাজত্ব করলেও বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব সমাজের সামাজিক জীবন এবং বেঁচে থাকার সামান্য সম্বলও অবশিষ্ট থাকবে না। যেমনি করে এখন বৈষম্যে প্রতি ৪ সেকেন্ডে মৃতু্য এক জন। সম্পদের সুষম বণ্টন এবং ধনকুবদের অর্থলিপ্সা হ্রাস করেই কেবল এই সংকট থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রয়োজন সার্বিক সুস্থতা

তরুণ সমাজে অপসংস্কৃতির প্রভাব ও করণীয়

কেন দরকার প্রমিত বাংলা?

অবহেলায় ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ওমিক্রন 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

উদাসীনতায় সড়কে নক্ষত্রপতন 

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

ই-বর্জ্যের দূষণ রোধে পদক্ষেপ জরুরি