বাক্সবন্দি এক্সরে মেশিন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ০৯:৩৮

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক এক্সরে মেশিনটি বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। গত বছর উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক এক্সরে মেশিন কেনার ব্যবস্থা করা হলেও সঠিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করায় মেশিনটি প্যাকেটবন্দি হয়ে হাসপাতালের এক্সরে রুমে পড়ে আছে। এছাড়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে জনবল সংকট। এর আগে বিগত পাঁচ বছর ধরে অন্য একটি এক্সরে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে ছিল।

জানা যায়, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৩ সালে এক্সরে বিভাগ চালু হয়। তখন প্রতিদিন ইনডোরে অন্তত সাত-আট জন রোগীর এক্সরে করা হতো। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে এক্সরে মেশিন বিকল হওয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে এক্সরে করা বন্ধ থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ে বাইরে যেতে হচ্ছে। আর প্রাইভেট ডায়াগনস্টিকে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। এক্সরে মেশিন বিকল হওয়ায় এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) হামিদুর রহমান কাজল এখন ফার্মেসিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোগীদের এই ভোগান্তি দূর করতে গত বছরে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ লাখ টাকায় ডিজিটাল এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ই-টেন্ডার হয়। রুবেল ইসলাম নামের এক যুবক বলেন, ডায়াগনস্টিকে এক্সরে করতে ৪০০-৫০০ টাকা লাগে। কিন্তু এটি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হলে কম খরচে করা যাবে। এতে হয়রানি কমবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে এক্সরে মেশিন প্রদান ও চালু করতে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুর রহমান চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরোনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। অন্যথায় বিল প্রদান করা হবে না। তিনি আরো বলেন, এই সমস্যা সমাধানের সঙ্গে নতুন এক্সরে মেশিনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর