আজ্ঞাবহ প্রশাসন সুশাসনের
অন্তরায়
দেশে এমন একটি প্রথা চালু হয়েছে যে, যখন যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে তখন পুরো রাষ্ট্রটি যেন সে দলের হয়ে যায়। রাষ্ট্রের প্রশাসন থাকে তাদের কব্জায়। দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত প্রশাসনকে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করে ব্যবহার করে। নানারকম বৈধ-অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে। অন্যদিকে দেশের বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এমন কি সাধারণ জনগণের কোন কথাই প্রশাসন শুনতে চায় না। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। কারণ প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আর প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতায় যারা থাকেন তাদের কথা অনুয়ায়ী তাদের কাজ করতে হয়। ক্ষমতাবানরা যদি অন্যায় আদেশ করেন তাহলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রশাসনকে তা পালন করতে হয়। যদি নীতি-নৈতিকতা ও বাধ্য-বাধকতার কারণে অন্যায় আদেশ পালনে অবহেলা করার চেষ্টা করেন তাহলে প্রশাসনের চাকরি হারানোর ভয় থাকে অনেকটা বাধ্য হয়ে প্রশাসন রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়। দেশের সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থেই যখন যে দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তাদের দলের কর্মী হিসাবে প্রশাসনকে ব্যবহার না করে প্রশাসনকে তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী চলতে দেয়া উচিত।
মো. হুমাযূন কবির
৩য় বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
==
প্রশাসনকে আজ্ঞাবহ করে রাখা
অনুচিত
প্রশাসনকে হাতের পুতুলের ন্যায় ব্যবহার করে আসছে ক্ষমতাসীন দলগুলো। এটা বর্তমান সরকার বলে কথা নয়। প্রতিটি সরকারের আমলে প্রশাসনকে ক্ষমতাসীন দলগুলো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে থাকে। যেটা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জন্য খুবই লজ্জাজনক। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। প্রশাসন থাকবে স্বাধীন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থান হবে সুদৃঢ়। এসব গণতন্ত্রের কথা, এসব সংবিধানের কথা। কিন্তু বাস্তবে তা আসলেই দেখা যায় না। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হাতগুলো অদৃশ্য শিকলে বন্দী করে রাখে ক্ষমতাসীন দলগুলো। তারা চাইলেও এর শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারে না। আর যদি কেউ সাহসও করে হয়তো পরবর্তী দিনগুলো হয়ে উঠে তার জন্য বেদনাদায়ক। প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসলে বলে, তারা প্রশাসনের উপর কোন রকমের হস্তক্ষেপ করবে না। বাস্তব চিত্র তার উল্টো। ক্ষমতাসীন দল সাধারণ জনগণকে যতটা বোকা মনে করে, জনগণ আসলে তত বোকা নয়। তথ্য-প্রযুক্তি ও মিডিয়ার কল্যাণে এখন কোন কিছু চাপা থাকে না। আমাদের দেশে প্রশাসনের উপর আদৌ ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বন্ধ হবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ তা একদিনে পরিবর্তন হওয়ার বিষয় নয়। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, যে দেশে প্রশাসনের উপর ক্ষমতাসীনদের প্রভাব থাকে, সে দেশে সঠিক জবাবদিহিতা থাকে না, আইনের শাসন থাকে না, সাধারণ জনগণের অধিকার থাকে না, গণতন্ত্রের মূল্য থাকে না। সুতরাং একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রশাসনকে ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহ হওয়া থেকে বের করে আনতে হবে।
সনেট দেব
বি.এস.এস. (সম্মান) শেষবর্ষ,
অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
===
প্রশাসন ক্ষমতাতান্ত্রিক নয় গণতান্ত্রিক
হতে হবে
প্রশাসনের উপর নির্ভর করে একটি দেশ ও জাতি, নির্ভর করে একটি দেশের গণতন্ত্র আর এই প্রশাসনই যদি হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ তবে গণতন্ত্র হয়ে পড়বে নদীর স্রোতে ধরে পড়া ভূমিখণ্ডের মত যা পরবর্তীতে চর হিসাবে জাগলেও ভোগ করে ক্ষমতাসীনরা। যা আমাদের এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সর্বসাধারণের জন্য কখনোই কাম্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রশাসনকে অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে গণতান্ত্রিকভাবে, যাতে এ দেশের সর্বসাধারণ হয় প্রশাসনের মালিক, ক্ষমতাসীনরা নয়। এজন্য এগিয়ে আসতে হবে সরকার, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং আজকের তরুণ সমাজকে। প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে সাংবিধানিক আইনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। সাংবিধানিক আইন লঙ্ঘনের জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে সাধারণ জনগণের গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার্থে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য নয়, প্রাধান্য হবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান।
মাস্তুরা নাহিদ (মিষ্টি)
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ,
আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
===
আজ্ঞাবহ প্রশাসন : অবসান হোক
এ প্রথার
যখন খবরের কাগজে দেখি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসন কোন বিশেষ দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে তখন সত্যিই খারাপ লাগে। বিষয়টির ইতিবাচক দিক যতটা না ভালো তার চেয়ে নেতিবাচক দিক অত্যন্ত খারাপ। সরকারি দলের কর্মীবাহিনীর সাথে বিরোধী দলের কর্মীবাহিনীর যখন কোন বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ার ফলে সংঘাত-সংঘর্ষ বাধে তখন দেখা যায় সরকারি দলের কর্মীরা বিরোধী দলের কর্মীবাহিনীকে নানাভাবে নাজেহাল করে। অথচ পাশে পুলিশ প্রশাসন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। কখনো পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিরোধী দলের কর্মীদের উপর আক্রমণের অভিযোগ পাওয়া যায়। দেশের অন্যান্য সেক্টরেও প্রশাসনের এমন অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। সন্দেহ নেই, এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য হয়েই এমন আচরণ করে। এমনটি প্রতিটি সরকারের আমলেই দেখা যায়। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনকে সকল প্রকার দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা দরকার।
মো. আসাদ আকন্দ
২য় বর্ষ, পরিসংখ্যান বিভাগ,
রাজশাহী কলেজ

